যুক্তরাষ্ট্রের কুখ্যাত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টেইন এর সাথে এর সম্পর্কের পরেও লর্ড পিটার ম্যান্ডেলসনকে ওয়াশিংটনে রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার জন্য এবার পদত্যাগ করলেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর চিফ অব স্টাফ মর্গান ম্যাকসুইনি।
এপস্টেইনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা থাকার পরও ২০২৪ সালে ম্যান্ডেলসনকে যুক্তরাষ্ট্রে ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ দেওয়ায় ঘটনায় ম্যাকসুইনির ভূমিকা নিয়ে সমালোচনা ও বিতর্ক বেড়ে চলেছে, এ পরিস্থিতিতে চাপের মুখে নাটকীয়ভাবে পদত্যাগ করলেন স্টারমারের শীর্ষ উপদেষ্টা।
বিবিসি জানায়, ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর এ উপদেষ্টা দেশটির সাবেক মন্ত্রী লর্ড ম্যান্ডেলসনের সঙ্গে অভিযুক্ত যৌন অপরাধী এপস্টেইনের বন্ধুত্বের কথা জানার পরও তাকে যুক্তরাষ্ট্রে ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার জন্য সুপারিশ করেছিলেন।
ম্যাকসুইনি দাবি করেছেন, তিনি ম্যান্ডেলসনের নিয়োগের আগে করা যাচাই ও মূল্যায়ন প্রক্রিয়া তদারিক করেননি, তারপরও তাকে রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ দিতে প্রধানমন্ত্রী স্টারমারকে পরামর্শ দেওয়ার জন্য 'পুরো দায়-দায়িত্ব' নিতে চান।
ম্যান্ডেলসনকে যুক্তরাষ্ট্রে রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ দেওয়ায় ঘটনায় যুক্তরাজ্যে ক্ষমতসীন লেবার পার্টির এমপি’দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।
এপস্টেইনের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগে ম্যান্ডেলসন গত ২ ফেব্রুয়ারিতে লেবার পার্টির সদস্যপদ ছেড়ে দিয়েছেন। তিনি হাউজ অব লর্ডস থেকেও স্থায়ীভাবে অবসরে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।
তবে এ নিয়ে যুক্তরাজ্যের ক্ষমতাসীন লেবার পার্টির মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়। লেবার এমপিরা ম্যান্ডেলসনকে রাষ্ট্রদূত নিয়োগ করার প্রধানমন্ত্রী স্টারমারের সিদ্ধান্ত নিয়ে এতটাই ক্ষুব্ধ যে, তারা তার পদত্যাগ দাবি করছেন। স্টারমার সবকিছু জেনেশুনেও ম্যান্ডেলসনকে নিয়োগ করেছিলেন বলে অভিযোগ করছেন তারা। এসব অভিযোগের মুখে স্টারমারের ক্ষমতার ভিত নড়বড়ে হয়ে গেছে।
ম্যান্ডেলসন ২০০৮ সালে যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষ হাউস অব লর্ডসে নিযুক্ত হয়েছিলেন। একই সময়ে তিনি তৎকালীন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী গর্ডন ব্রাউনের মন্ত্রিসভায় বাণিজ্যমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ পেয়েছিলেন। এপস্টেইন যৌন অপরাধের অভিযোগের মুখোমুখি হওয়ার পর ম্যান্ডেলসন তাকে সমর্থন করে বার্তা পাঠিয়েছিলেন, এমন ইমেইল বের হওয়ার পর সেপ্টেম্বরে তাকে রাষ্ট্রদূতের পদ থেকে বরখাস্ত করেন স্টারমার।
কিন্তু সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রে এপস্টেইন সংক্রান্ত বিপুল নথি, ছবি ও ভিডিও প্রকাশ পাওয়ার পর দেখা যায় ২০০৮ সালে আদালতে অভিযুক্ত হওয়ার পরও এই যৌন অপরাধীর সঙ্গে ম্যান্ডেলসনের নিয়মিত যোগাযোগ ছিল। প্রকাশিত একটি নথিতে বলা হয়েছে, ম্যান্ডেলসন ব্রিটিশ মন্ত্রী থাকাকালে এপস্টেইনের কাছে যুক্তরাজ্যের সংবেদনশীল তথ্য পাচারও করেছিলেন।
এরপর তার বিরুদ্ধে তদন্তের ডাক ওঠে। তার বিরুদ্ধে সরকারি দায়িত্ব পালনকালে অসদাচরণের অভিযোগে ফৌজদারি তদন্ত শুরু করেছে ব্রিটিশ পুলিশ।
স্টারমার জানিয়েছেন, এপস্টেইনের সঙ্গে ম্যান্ডেলসনের আগের সম্পর্কের কথা প্রথম প্রকাশ পায় যখন রাষ্ট্রদূত হিসেবে তাকে নিয়োগ দেওয়ার জন্য যাচাই ও মূল্যায়ন প্রক্রিয়া চলছিল, কিন্তু মন্ত্রীসভার সাবেক এই সদস্য তাদের সম্পর্কের গভীরতা নিয়ে তখন ‘মিথ্যা কথা’ বলেছিলেন।
তার বিরুদ্ধে পদত্যাগের দাবি জোরাল হওয়ার মুখে বৃহস্পতিবার স্টারমার ‘ক্ষমা’ চেয়েছেন। লেবার এমপিদের ক্ষোভ ও হতাশার বিষয়টি বোঝেন বলেও উল্লেখ করেছেন তিনি।
কিন্তু এরপরও ম্যান্ডেলসনকে যুক্তরাষ্ট্রে ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূত করার সিদ্ধান্ত নিয়ে তৈরি হওয়া বিতর্ক কমেনি। লেবার পার্টির অল্প কিছু এমপি প্রকাশ্যে দলীয় প্রধানের পদ থেকে স্টারমারের পদত্যাগ দাবি করছেন।
ম্যাকসুইনির বিদায় স্টারমারের জন্য বড় একটি ধাক্কা। ২০২০ সালে লেবার পার্টির নেতৃত্বের প্রতিদ্বন্দ্বিতায় স্টারমারের সফলতার পেছনে মাস্টারমাইন্ডের ভূমিকা পালন করেছিলেন ৪৮ বছর বয়সী এই আইরিশ রাজনীতিক।
এরপর ২০২৪ সালের সাধারণ নির্বাচনে লেবার পার্টির সফল প্রচারণার ক্ষেত্রেও ম্যাকসুইনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। আপনিই প্রথম মন্তব্য করুন!
আপনার মতামত দিন