বগুড়া-৬ ও শেরপুর-৩ আসনের উপনির্বাচনকে কেন্দ্র করে অনিয়ম, জাল ভোট ও সহিংসতার অভিযোগ তুলে দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন ব্যবস্থার কড়া সমালোচনা করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটির আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন কেমন হতে পারে, তার ‘বীভৎস রূপ’ ইতিমধ্যেই জাতির সামনে চলে এসেছে। বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নিজের ভেরিফায়েড পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ মন্তব্য করেন।
ফেসবুক পোস্টে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জাতীয় সংসদ একটি পবিত্র আমানতের জায়গা। সেখানে যারা জনগণের রায়কে গায়ের জোরে পাল্টে দিয়ে আসবেন, তাদের দ্বারা দেশ ও জাতির কল্যাণের চেয়ে ক্ষতির আশঙ্কাই বেশি। তিনি আরও বলেন, জনগণের রায়ের প্রতি যাদের আস্থা আছে, তারা কখনও শক্তির দাপট দেখাতে চান না।
এদিকে দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার রাজধানীর মগবাজারে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করেন, বগুড়া-৬ ও শেরপুর-৩ আসনের বিভিন্ন কেন্দ্রে এজেন্টদের বের করে দেওয়া, জাল ভোট প্রদান, এমনকি কোথাও কোথাও ভোট চলাকালেই এজেন্টদের কাছ থেকে জোর করে রেজাল্ট শিটে স্বাক্ষর নেওয়ার মতো ঘটনা ঘটেছে। এসব অনিয়মের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিতে তিনি প্রধান নির্বাচন কমিশনারের হস্তক্ষেপ চান।
মিয়া গোলাম পরওয়ার আরও দাবি করেন, অনিয়মের প্রতিবাদ করায় জামায়াত নেতাকর্মীদের ওপর হামলার ঘটনাও ঘটেছে এবং প্রশাসন নীরব ভূমিকা পালন করেছে। তার প্রশ্ন, নির্বাচিত সরকারের আমলের প্রথম দুটি উপনির্বাচনেই যদি এমন অভিযোগ ওঠে, তাহলে সামনে স্থানীয় সরকার নির্বাচন কতটা সুষ্ঠু হবে। তবে তিনি বলেন, এ বিষয়ে তার দল কোনো আবেগপ্রসূত সিদ্ধান্ত নেবে না।
জামায়াতের অভিযোগের পর নির্বাচন কমিশনও বিষয়টি খতিয়ে দেখার উদ্যোগ নিয়েছে। ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ জানিয়েছেন, শেরপুর-৩ আসনের সাধারণ নির্বাচন এবং বগুড়া-৬ আসনের উপনির্বাচনে ভোট জালিয়াতিসহ অন্যান্য অনিয়মের অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তাদের দ্রুত প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। আপনিই প্রথম মন্তব্য করুন!
আপনার মতামত দিন