রাত পোহালেই শুরু হচ্ছে বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। আগামীকাল ১২ ফেব্রুয়ারি সকাল ৭টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত টানা ভোটগ্রহণ চলবে। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক ভোট আয়োজনের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।
ভোটার ও আসনের চিত্র
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, এবারের নির্বাচনে মোট ভোটার সংখ্যা ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৮৯৯ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৬ কোটি ৪৮ লাখের বেশি, নারী ভোটার ৬ কোটি ২৮ লাখের বেশি এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন ১ হাজারের বেশি।
৩০০টি সংসদীয় আসনের মধ্যে ২৯৯টিতে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। (একটি আসনে প্রার্থীর মৃত্যুসহ অন্যান্য কারণে ভোট স্থগিত রয়েছে।)
অংশ নিচ্ছে ৫১টি রাজনৈতিক দল
এবারের নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে ৫১টি রাজনৈতিক দল। এর মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি), বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দল।
মোট প্রার্থী সংখ্যা ২ হাজারের বেশি। এর মধ্যে স্বতন্ত্র প্রার্থী রয়েছেন ২৭৫ জন।
নিরাপত্তা ও পর্যবেক্ষণ
নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশব্যাপী আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। পুলিশ, র্যাব, আনসার ও বিজিবির পাশাপাশি সেনাবাহিনী মাঠে টহল দিচ্ছে।
এবারের নির্বাচনে ৪৫টি দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থার পর্যবেক্ষক অংশ নিচ্ছেন বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন। গণমাধ্যমকর্মীদেরও ভোটকেন্দ্রে প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে।
পোস্টাল ব্যালট ও প্রবাসী ভোট
প্রথমবারের মতো তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর পোস্টাল ব্যালট ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিরা ভোট দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। প্রায় ৮ লাখ প্রবাসী ভোটার নিবন্ধন সম্পন্ন করেছেন।
ভোটের আগে আলোচিত ইস্যু
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এবারের নির্বাচনে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার, রাষ্ট্রসংস্কার, দুর্নীতি দমন, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, কর্মসংস্থান, বিচার ও জবাবদিহিতা—এসব ইস্যু ভোটারদের সিদ্ধান্তে বড় ভূমিকা রাখতে পারে। তরুণ ভোটারদের সক্রিয় উপস্থিতিও এবারের নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্টর হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
ব্যালট পেপার ও লজিস্টিকস
নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, ব্যালট পেপারসহ সব উপকরণ সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তাদের কাছে পৌঁছে গেছে এবং কেন্দ্রভিত্তিক বিতরণ সম্পন্ন হয়েছে। ভোটগ্রহণ শেষে কেন্দ্রেই গণনা হবে এবং ফলাফল পর্যায়ক্রমে প্রকাশ করা হবে।
বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা একটি শান্তিপূর্ণ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন। ভোটারদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে নির্ভয়ে ও স্বাধীনভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগের জন্য।
রাত পোহালেই নির্ধারিত হবে দেশের পরবর্তী পাঁচ বছরের রাজনৈতিক নেতৃত্ব। এখন নজর পুরো জাতির—ভোটের মাঠে।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। আপনিই প্রথম মন্তব্য করুন!
আপনার মতামত দিন