ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ২৮৬ জনের বিরুদ্ধে অন্তর্বর্তী সরকার উৎখাতের চেষ্টা ও রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে দায়ের করা রাষ্ট্রদ্রোহ মামলার অভিযোগ গঠনের শুনানি আগামী বুধবার অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৯ এর বিচারক আব্দুস সালামের আদালতে এ বিষয়ে শুনানি হবে।
আসামিপক্ষের আইনজীবী মোরশেদ হোসেন শাহীন জানান, আসামিদের অব্যাহতি চেয়ে আদালতে শুনানি করা হবে। তিনি বলেন, “আমরা আশা করছি আদালত আসামিদের অব্যাহতি দেবেন। তবে অভিযোগ গঠন হলে মামলার বিচারিক কার্যক্রমের মুখোমুখি হতে হবে।”
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, ‘জয় বাংলা ব্রিগেড’-এর একটি জুম মিটিংয়ে অংশ নিয়ে আসামিরা সরকার উৎখাতের ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হন।
ওই সভায় রাষ্ট্রবিরোধী বক্তব্য ও কর্মকাণ্ড সংঘটিত হয় বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।মামলায় সাবেক সংসদ সদস্য সাবিনা আক্তার তুহিনসহ ২৭ জন বর্তমানে গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে রয়েছেন।
এছাড়া খুলনার যুবলীগ নেতা পারভেজ খান ইমন, চট্টগ্রাম ‘জয় বাংলা ব্রিগেড’-এর প্রধান কবিরুল ইসলাম আকাশ, বরিশাল বিভাগের অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম, সোহানা পারভীন রুনা, হাফিজুর রহমান ইকবাল, আল মারুফ, এলাহী নেওয়াজ মাছুম ও সাজ্জাদুল আনামসহ আরও অনেকে এ মামলার আসামি।
গত ৫ জানুয়ারি মামলাটি অভিযোগ গঠনের শুনানির জন্য ধার্য থাকলেও আসামি আক্তারুজ্জামানকে আদালতে হাজির না করায় শুনানি পিছিয়ে ২১ জানুয়ারি নির্ধারণ করা হয়।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ক্ষমতা হারিয়ে ভারতে চলে যাওয়ার পর থেকে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা সেখানেই অবস্থান করছেন। তাকেসহ মোট ২৫৯ জন আসামিকে পলাতক দেখিয়ে মামলার কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
সিআইডির সহকারী পুলিশ সুপার মো. এনামুল হক গত ২৭ মার্চ শেখ হাসিনাসহ ৭৩ জনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে মামলাটি দায়ের করেন। তদন্ত শেষে গত ৩০ জুলাই শেখ হাসিনাসহ মোট ২৮৬ জনকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়।
পরবর্তীতে ১৪ আগস্ট আদালত অভিযোগপত্র গ্রহণ করে আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। ১১ সেপ্টেম্বর আসামিদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়।
এরপর ১৪ অক্টোবর পলাতক ২৫৬ জনকে আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দিয়ে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের আদেশ দেন আদালত।
বিচারের জন্য প্রস্তুত হওয়ায় গত ১১ নভেম্বর মামলাটি ঢাকার সিএমএম আদালত থেকে মহানগর দায়রা জজ আদালতে স্থানান্তর করা হয়।
মামলার অভিযোগে আরও বলা হয়, গত বছরের ১৯ ডিসেম্বর যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি রাব্বী আলমের নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত ‘জয় বাংলা ব্রিগেড’-এর একটি জুম সভায় কয়েকশ নেতাকর্মী অংশ নেন।
সেখানে শেখ হাসিনা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে উৎখাতের নির্দেশনা দেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। ওই বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। আপনিই প্রথম মন্তব্য করুন!
আপনার মতামত দিন