ঢাকার সোহরাওয়ার্দী উদ্যান, ধানমন্ডি লেক ও চাঁদপুরসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে পুলিশের অভিযানে মারধর ও আটকের ঘটনায় তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, সাংবাদিক ও শ্রমজীবী মানুষের ওপর অতিউৎসাহী পুলিশের হামলা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; এটি পুরনো দমন-পীড়নের সংস্কৃতিরই প্রতিধ্বনি।
মঙ্গলবার রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ মন্তব্য করেন।
পোস্টের প্রথম অংশে বাংলায় শফিকুর রহমান লেখেন, “২০০৯-২০২৪ ছিল দীর্ঘ এক দুঃসময়। এ সময়ে কিছু অসৎ ও দলদাস পুলিশ কর্মকর্তা ফ্যাসিবাদী শক্তিকে টিকিয়ে রাখতে সক্রিয় ভূমিকা রেখেছিল। এর পরিণতি আমরা ২০২৪ সালে দেখেছি—পুলিশবিরোধী ক্ষোভ এবং পুরো বাহিনীর নৈতিক ভিত্তি ভেঙে পড়ার চিত্র।”
তিনি বলেন, “রাষ্ট্রীয় শক্তি কখনোই নাগরিকের বিরুদ্ধে ব্যবহার করা যায় না। জনগণের টাকায় বেতন পাওয়া পুলিশের দায়িত্ব জনগণকে সুরক্ষা দেওয়া, দমন করা নয়।” যারা পুলিশকে দলীয় স্বার্থে ব্যবহার করবে বা অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের সংস্কৃতি ফিরিয়ে আনতে চাইবে, তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ও গণতান্ত্রিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার কথাও বলেন তিনি।
পুলিশকে জনবান্ধব হওয়ার আহ্বান জানিয়ে শফিকুর রহমান বলেন, “আইনের শাসন মানে শক্তির প্রদর্শন নয়, ন্যায়ের প্রতিষ্ঠা। আমরা একটি নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতি দেখতে চাই।”
পোস্টের দ্বিতীয় অংশে ইংরেজিতে তিনি নতুন সরকারকে উদ্দেশ্য করে লেখেন, “জুলাই বিপ্লবের চেতনা এখনো অম্লান। যারা ওই আন্দোলনে অংশ নিয়েছিলেন, তারা দুর্নীতির অবসান এবং রাষ্ট্র বা পুলিশের অন্যায় ক্ষতি ও সহিংসতা থেকে সুরক্ষা নিশ্চিত করার অঙ্গীকারে অটল। ভয়ের যুগ ভেঙে গেছে; নাগরিকেরা আর নিপীড়িত বা ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে থাকতে রাজি নন।”
এই গণতান্ত্রিক জাগরণকে আর উল্টে দেওয়া বা উপেক্ষা করা সম্ভব নয় উল্লেখ করে তিনি লেখেন, “গণমাধ্যম তার স্বাধীনতা পুনরুদ্ধার করেছে এবং জনগণও ক্ষমতাকে জবাবদিহির আওতায় আনতে নতুন করে আত্মবিশ্বাস ফিরে পেয়েছে।”
সবশেষে শফিকুর রহমান বলেন, “আমরা সবসময় জনগণের পাশে ছিলাম এবং ন্যায়বিচার, জবাবদিহি ও একটি ন্যায্য, দুর্নীতিমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ভবিষ্যতেও তাদের পাশেই থাকব।”
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। আপনিই প্রথম মন্তব্য করুন!
আপনার মতামত দিন