প্রবাসীদের জন্য বিশেষ সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে সরকার ‘প্রবাসী কার্ড’ চালুর উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রবাসীকল্যাণ, বৈদেশিক কর্মসংস্থান, শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।
তিনি বলেছেন, এই কার্ডের মাধ্যমে রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের মর্যাদা দেওয়া এবং সরকারি সহায়তা আরও সহজ করা হবে।
শনিবার দুপুরে সিলেটের গ্র্যান্ড সিলেট হোটেল অ্যান্ড রিসোর্টে আয়োজিত ‘গ্লোবালাইজিং সিলেট’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, প্রবাসীদের জন্য সরকার অনেকগুলো পদক্ষেপ হাতে নিয়েছে। খুব দ্রুত প্রবাসী কার্ড চালু করা হবে। যারা দেশে রেমিট্যান্স পাঠান, তাদের কী ধরনের সম্মান ও সহযোগিতা দেওয়া যায়, তা নিয়ে সরকার কাজ করছে।
প্রবাসীদের বিনিয়োগ নিরাপদ ও সহজ করতে বিশেষ আবাসন ও বিনিয়োগ সহায়তা প্রকল্প নেওয়া হচ্ছে জানিয়ে আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, প্রবাসীদের জন্য অ্যাপার্টমেন্টভিত্তিক আধুনিক আবাসন প্রকল্প সিলেট থেকেই শুরু হতে পারে।
তিনি বলেন, দেশে জমি কমে যাচ্ছে। তাই ভবিষ্যতে প্লটভিত্তিক প্রকল্পের পরিবর্তে অ্যাপার্টমেন্টভিত্তিক আধুনিক আবাসন গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এসব প্রকল্পে শুধু প্রবাসীরাই বরাদ্দ পাবেন।
মন্ত্রী আরও বলেন, প্রকল্পগুলোতে প্রবাসীদের নিরাপত্তা, বাজার, নাগরিক সুবিধা ও সরকারি সুরক্ষা নিশ্চিত করা হবে। বিষয়টি নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, “স্টার্ট ফ্রম সিলেট—সিলেট থেকেই এই উদ্যোগ শুরু হতে পারে। কারণ প্রবাসীদের সঙ্গে সিলেটের সম্পর্ক সবচেয়ে বেশি।”
দেশে বিনিয়োগ করতে এসে প্রবাসীরা বিভিন্ন দপ্তরে ঘুরে হয়রানির শিকার হন উল্লেখ করে তিনি বলেন, লাইসেন্স ও অনুমোদন নিতে দীর্ঘসূত্রতার কারণে অনেকেই হতাশ হয়ে ফিরে যান। এসব সমস্যা কমাতে সরকার একটি বিশেষ সেল গঠন করেছে।
মন্ত্রী বলেন, সরকার প্রবাসীদের পক্ষ হয়ে কাজ করবে, যাতে তাদের বিনিয়োগ শতভাগ নিরাপদ থাকে এবং সময় নষ্ট না হয়।
তিনি আরও বলেন, প্রবাসীদের নতুন প্রজন্মকে দেশের সঙ্গে সম্পৃক্ত রাখতেই এ ধরনের উদ্যোগ প্রয়োজন। পরবর্তী প্রজন্ম যেন মাতৃভূমিকে ভুলে না যায়, সেই পরিবেশ তৈরি করতে হবে। তারা দেশে এলে বিনিয়োগও করবে, পারিবারিক বন্ধনও শক্ত হবে।
আরিফুল হক চৌধুরী জানান, ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রবাসীদের জন্য আলাদা লাউঞ্জ নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে। ইতোমধ্যে টেন্ডার প্রক্রিয়াও সম্পন্ন হয়েছে। এ ছাড়া ইমিগ্রেশন এলাকায় চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে ডাক্তার, নার্স ও মেডিকেল সুবিধাসহ একটি মেডিকেল ইউনিট চালুর কাজ চলছে।
তিনি বলেন, অনেক সময় ফ্লাইট বিলম্বসহ নানা ভোগান্তি হয়। কিন্তু অসুস্থ হলে বিমানবন্দরের আশপাশে দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা ছিল না। এখন ইমিগ্রেশনের ভেতরেই সেই ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
মন্ত্রী আরও জানান, গুরুতর অসুস্থ প্রবাসীদের দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার জন্য বিমানবন্দরে স্থায়ী অ্যাম্বুলেন্স রাখা হবে। একই সঙ্গে বিদেশে মারা যাওয়া প্রবাসীদের মরদেহ বিনা খরচে দেশে এনে বাড়ি পর্যন্ত পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থাও সরকার চালু করেছে।
অনুষ্ঠানে সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, পুলিশ কমিশনার আব্দুল কুদ্দুছ চৌধুরীসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। আপনিই প্রথম মন্তব্য করুন!
আপনার মতামত দিন