ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) সমাজকল্যাণ বিভাগের সভাপতি ও সহকারী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া রুনা হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত কর্মচারী ফজলু রহমান লিখিত স্টেটমেন্টে হত্যার বিষয়টি স্বীকার করেছেন।
কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. ইমাম হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, বুধবার (৪ মার্চ) রাতে পুলিশের উপস্থিতিতে ফজলু রহমানের লিখিত স্টেটমেন্ট নেওয়া হয়। সেখানে তিনি উল্লেখ করেন, বিভাগীয় প্রধান তাকে বদলি করা এবং বেতন বন্ধ করে দেওয়ায় তার মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়। সেই ক্ষোভ থেকেই তিনি এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন বলে স্বীকার করেন।
বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ডা. ইমাম হোসেন বলেন, ফজলু রহমান বর্তমানে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং তিনি আশঙ্কামুক্ত। তাকে ডাকলে তিনি সাড়া দিচ্ছেন এবং চোখ মেলে তাকাচ্ছেন। কোনো কিছু জানতে চাইলে তিনি কলম দিয়ে লিখে উত্তর দিতে পারছেন। বুধবার রাতেই পুলিশের কর্মকর্তারা তার দুই পাতার লিখিত বক্তব্য সংগ্রহ করেছেন।
তিনি আরও জানান, ফজলুর রহমানের পরিবারের সদস্যরা হাসপাতালে আসছেন এবং তাকে ঢাকায় নিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
এদিকে নিহত শিক্ষিকা আসমা সাদিয়া রুনার স্বামীর বড় ভাই আবদুর রশিদ বলেন, কর্মস্থলে এমন হত্যাকাণ্ড অত্যন্ত ন্যাক্কারজনক। এ ঘটনায় কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তির সম্পৃক্ততা থাকতে পারে বলে তিনি দাবি করেন এবং তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান। ইতোমধ্যে মামলার প্রস্তুতি ও সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
এছাড়া বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে নিহত শিক্ষিকা আসমা সাদিয়া রুনার মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালের আরএমও ডা. ইমাম হোসেন ও মেডিকেল অফিসার ডা. রুমন রহমান।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। আপনিই প্রথম মন্তব্য করুন!
আপনার মতামত দিন