স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ইউনাইটেড নেশনস ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রামের (ইউএনডিপি) আবাসিক প্রতিনিধি স্টিফান লিলারের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল।
রোববার দুপুরে বেইলি রোডে মন্ত্রীর সরকারি বাংলোয় এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।
সাক্ষাৎকালে উভয় পক্ষের মধ্যে আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি, পুলিশ সংস্কার, স্বাধীন পুলিশ কমিশন, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ, গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার অধ্যাদেশ এবং রোহিঙ্গা ইস্যুসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
বৈঠকের শুরুতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ইউএনডিপি প্রতিনিধিদলকে স্বাগত জানান। এ সময় আবাসিক প্রতিনিধি স্টিফান লিলার নতুন দায়িত্ব গ্রহণের জন্য মন্ত্রীকে অভিনন্দন জানান।
পুলিশ সংস্কার প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সরকার পুলিশ সংস্কারে কাজ করছে। তবে এটি রাতারাতি সম্ভব নয়; ধারাবাহিক ও পর্যায়ক্রমিক উন্নয়নের মাধ্যমেই এ প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হবে। তিনি পুলিশের পুনর্গঠন, সংস্কার এবং সক্ষমতা বৃদ্ধিতে ইউএনডিপির সহযোগিতার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
ইউএনডিপির আবাসিক প্রতিনিধি পুলিশ সংস্কারে প্রয়োজনীয় সহায়তার আশ্বাস দেন। তিনি বলেন, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন গঠনে ইউএনডিপির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে এবং কমিশনের অধ্যাদেশের খসড়া প্রণয়নেও সংস্থাটি সহযোগিতা করেছে। এ ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক সর্বোত্তম অনুশীলন অন্তর্ভুক্ত করার চেষ্টা করা হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এটি স্বাধীন পুলিশ কমিশন গঠনের সঙ্গে নিবিড়ভাবে সম্পর্কযুক্ত। তাই প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই শেষে এ সংক্রান্ত অধ্যাদেশ সংসদে বিল আকারে উপস্থাপন করা হবে।
গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার অধ্যাদেশ নিয়ে প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এটিও পরবর্তীতে আরও পর্যালোচনার পর জাতীয় সংসদে বিল আকারে তোলা হবে। তিনি উল্লেখ করেন, অধ্যাদেশটির কিছু সংজ্ঞা এমনভাবে দেওয়া হয়েছে যাতে গুমের প্রকৃত নির্দেশদাতাকে শনাক্ত করা জটিল হয়ে পড়তে পারে।
রোহিঙ্গা ক্যাম্পে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নকে তদন্তের ক্ষমতা দেওয়ার প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, কেবল তদন্তকারী কর্মকর্তাই তদন্ত করতে পারেন এবং এপিবিএন কোনো তদন্তকারী সংস্থা নয়। তবে রোহিঙ্গা ক্যাম্পের নিরাপত্তা আরও জোরদার করার আশ্বাস দেন তিনি।
বৈঠকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক-১ শাখার যুগ্মসচিব রেবেকা খান, ইউএনডিপি বাংলাদেশের ডেপুটি রেসিডেন্ট রিপ্রেজেনটেটিভ সোনালি দয়ারত্নে, অ্যাসিস্ট্যান্ট রেসিডেন্ট রিপ্রেজেনটেটিভ আনোয়ারুল হক এবং রুল অব ল, জাস্টিস অ্যান্ড সিকিউরিটি বিষয়ক অ্যাডভাইজর রোমানা শোয়েগারসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। আপনিই প্রথম মন্তব্য করুন!
আপনার মতামত দিন