সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন বলেছেন, নির্বাচনি ইশতেহারে নারী ও শিশু সুরক্ষাবিষয়ক সুপারিশ বাস্তবায়নে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিশ্রুতি পূরণে সরকার অঙ্গীকারাবদ্ধ। তিনি বলেন, নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে সরকার জিরো টলারেন্স নীতি বাস্তবায়নে কাজ করছে।
সোমবার (৬ এপ্রিল) রাজধানীর গুলশানের একটি হোটেলে প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ আয়োজিত ‘নির্বাচনি ইশতেহারে নারী ও শিশু সুরক্ষার সুপারিশ: রাজনৈতিক দলের প্রতিশ্রুতি ও ভবিষ্যৎ করণীয়’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকারের নির্বাচনি ইশতেহারে নারী ও শিশু সুরক্ষা একটি অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত বিষয়। শুধু প্রতিশ্রুতি নয়, এটি বাস্তবায়নে কাজ চলছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। প্ল্যান ইন্টারন্যাশনালের মতো আন্তর্জাতিক সংস্থার সঙ্গে যৌথভাবে নারী নির্যাতন প্রতিরোধ, শিশু অধিকার সংরক্ষণ, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রের পাশাপাশি সমাজের সবার দায়বদ্ধতা রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এজেডএম জাহিদ হোসেন আরও বলেন, দেশের ৫১ শতাংশ নারী ও ৩৩ শতাংশ শিশু সমাজের গুরুত্বপূর্ণ অংশ ও সম্পদ। নারীর ক্ষমতায়ন এবং শিশুদের সুরক্ষা ছাড়া দেশের উন্নয়ন সম্ভব নয়। তিনি জানান, নারীপ্রধান পরিবারগুলোর সরাসরি উপকার নিশ্চিত করতে সরকার ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচিসহ বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে আইনের যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করার পাশাপাশি পরিবারকে ছেলে-মেয়েদের নৈতিক শিক্ষা ও ভালো মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার বিষয়ে আরও দায়িত্বশীল হতে হবে। মাদকাসক্ত তরুণদের সামাজিক ব্যাধি হিসেবে উল্লেখ করে তাদের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলারও আহ্বান জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতে আরও শক্তিশালী আইন প্রয়োগ, সচেতনতা বৃদ্ধি এবং এনজিও-সরকারি অংশীদারিত্বের মাধ্যমে নারী ও শিশু সুরক্ষাকে আরও জোরদার করা হবে। প্ল্যান ইন্টারন্যাশনালের সুপারিশগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে বলেও জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের প্রতিনিধিরা শিশু বিয়ে প্রতিরোধ, লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা বন্ধ, শিশু শ্রম নির্মূল এবং মেয়েদের শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধির ওপর জোর দিয়ে সুপারিশমালা উপস্থাপন করেন। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তি, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট অংশীজন উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। আপনিই প্রথম মন্তব্য করুন!
আপনার মতামত দিন