সরকার ও বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের পক্ষ থেকে পর্যাপ্ত জ্বালানি মজুত থাকার আশ্বাস দেওয়া হলেও, দেশের বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে দীর্ঘ লাইন ও সরবরাহে বিঘ্নের চিত্র এখনো কাটেনি। রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় গাড়ি ও মোটরসাইকেলচালকদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে, আর অনেক পাম্পে দেখা যাচ্ছে ‘তেল নেই’ নোটিশ। এতে বিশেষ করে রাইড শেয়ারিং মোটরসাইকেলচালকদের ট্রিপ ও আয় কমে গেছে।
চাহিদার চাপ সামাল দিতে বিপিসি ডিজেল, পেট্রল ও অকটেনের সরবরাহ ১০ থেকে ২০ শতাংশ বাড়ানোর কথা জানিয়েছে। বর্তমানে তিনটি রাষ্ট্রায়ত্ত বিপণন কোম্পানির মাধ্যমে প্রতিদিন ১৩ হাজার ৪৮ টন ডিজেল, ১ হাজার ৪২২ টন অকটেন এবং ১ হাজার ৫১১ টন পেট্রল বিতরণ করা হচ্ছে। তবে সরবরাহ বাড়ানোর এই উদ্যোগ খুচরা পর্যায়ে এখনো কাঙ্ক্ষিত স্বস্তি আনতে পারেনি।
বন্দর ও বিপিসি সূত্র বলছে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ২১ এপ্রিল পর্যন্ত ৫৩ দিনে চট্টগ্রাম বন্দরে ২৬টি জাহাজে ৮ লাখ ২৩ হাজার ১৭০ টন জ্বালানি দেশে এসেছে। এর মধ্যে ৬ লাখ ২৪ হাজার ৪৫২ টন ডিজেল, ১ লাখ ২৪ হাজার ৮৭ টন ফার্নেস অয়েল, ৫৩ হাজার ৩৬৪ টন অকটেন এবং ২১ হাজার ২৬৬ টন জেট ফুয়েল রয়েছে। এছাড়া মালয়েশিয়া থেকে ৩২ হাজার টন ডিজেল নিয়ে একটি জাহাজ গতকাল বন্দরে নোঙর করেছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, আমদানি ও আগের মজুত মিলিয়ে দেশে ডিজেল ও অকটেনের ঘাটতি থাকার কথা নয়।
তার পরও ভোক্তা পর্যায়ে সংকট অব্যাহত থাকায় বিশ্লেষকরা সরবরাহ ঘাটতির চেয়ে ব্যবস্থাপনার দুর্বলতাকেই বড় কারণ হিসেবে দেখছেন। তাদের মতে, মার্চের শুরুতে আতঙ্কে অতিরিক্ত জ্বালানি উত্তোলন, দুর্বল নজরদারি, মজুত করে রাখা এবং সম্ভাব্য পাচারের কারণে বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। প্রযুক্তিনির্ভর ট্র্যাকিং, জোড়-বিজোড় রেশনিং এবং পাম্পভিত্তিক কঠোর তদারকি আগে থেকে চালু করা গেলে পরিস্থিতি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হতো।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। আপনিই প্রথম মন্তব্য করুন!
আপনার মতামত দিন