পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে সূচিত হলো নতুন অধ্যায়। দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকা তৃণমূল কংগ্রেসকে হারিয়ে প্রথমবারের মতো রাজ্যে সরকার গঠন করল ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। শনিবার (৯ মে) কলকাতার ঐতিহাসিক ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে পশ্চিমবঙ্গের নবম মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী।
রবীন্দ্রজয়ন্তীর দিনে রাজভবনের পরিবর্তে খোলা ময়দানে জমকালো আয়োজনের মধ্য দিয়ে শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ছাদখোলা গাড়িতে করে সভাস্থলে প্রবেশের সময় তার সঙ্গে ছিলেন শুভেন্দু অধিকারী ও বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য।
এছাড়া কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং, বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নীতিন নবীনসহ ওড়িশা, উত্তরপ্রদেশ, আসাম ও ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রীরা অনুষ্ঠানে যোগ দেন। উপস্থিত ছিলেন অভিনেতা মিঠুন চক্রবর্তীসহ কেন্দ্র ও রাজ্য বিজেপির শীর্ষ নেতারা।
শপথ মঞ্চ সাজানো হয়েছিল বাংলার ঐতিহ্যকে সামনে রেখে। দক্ষিণেশ্বর মন্দির ও কালীঘাট মন্দিরের আদলে মঞ্চের আবহ তৈরি করা হয়। অনুষ্ঠানে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছবিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা জানান প্রধানমন্ত্রী মোদি। জাতীয় সংগীতের মধ্য দিয়ে ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
নন্দীগ্রামের পর ভবানীপুরেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে হারিয়ে আলোচনায় আসেন শুভেন্দু অধিকারী। ৫৫ বছর বয়সী পূর্ব মেদিনীপুরের এই নেতা রাজ্যের দ্বিতীয় কনিষ্ঠতম মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিলেন। শুক্রবার সন্ধ্যায় নবনির্বাচিত ২০৭ জন বিধায়কের সমর্থনপত্র নিয়ে রাজ্যপাল আর এন রবির সঙ্গে দেখা করেন তিনি। এর আগে কনভেনশন সেন্টারে অমিত শাহ আনুষ্ঠানিকভাবে তার নাম ঘোষণা করেন।
শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান ঘিরে ব্রিগেড চত্বর নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে দেয় এসপিজি ও স্থানীয় পুলিশ। প্রায় ৫০ হাজার মানুষের বসার ব্যবস্থা থাকলেও মাঠে উপচে পড়া ভিড় দেখা যায়। শহরের বিভিন্ন প্রান্তে জায়ান্ট স্ক্রিনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানটি সরাসরি সম্প্রচার করা হয়।
শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে মন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন দিলীপ ঘোষ, অগ্নিমিত্রা পাল, নিশীথ প্রামাণিকসহ বিজেপির আরও কয়েকজন শীর্ষ নেতা।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। আপনিই প্রথম মন্তব্য করুন!
আপনার মতামত দিন