পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির ভূমিধস জয়ের পর রাজ্যজুড়ে নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতা ছড়িয়ে পড়েছে। ফল ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই রাজ্যের বিভিন্ন এলাকা থেকে সংঘর্ষ, হামলা ও ভাঙচুরের খবর পাওয়া গেছে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফ ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে এখন পর্যন্ত অন্তত তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া অনেকে আহত হয়েছেন বলেও জানা গেছে।
নিহতদের মধ্যে রয়েছেন হাওড়ার উদয়নারায়ণপুরের বিজেপি কর্মী যাদব বার (৪৫), নিউটাউনের বিজেপি কর্মী মধু মণ্ডল এবং বীরভূমের নানুরের তৃণমূল সমর্থক আবির শেখ।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়, রাজনৈতিক রেষারেষি ও ব্যক্তিগত শত্রুতার জেরে এসব হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটতে পারে। হাওড়ার ঘটনায় লোহার রড দিয়ে হামলার অভিযোগ উঠেছে। অন্যদিকে, বীরভূমের ঘটনায় তৃণমূল বিজেপির বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ তুলেছে। তবে বিজেপি ওই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
সহিংসতার বিষয়ে বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য দাবি করেছেন, এসব ঘটনায় বিজেপির কোনো কর্মী জড়িত নয়। তাঁর অভিযোগ, তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও ব্যক্তিগত শত্রুতার জেরে বিরোধী গোষ্ঠী বিজেপির পতাকা ব্যবহার করে এসব ঘটনা ঘটাচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, বিজেপির কোনো কর্মী জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেলে তাকে অবিলম্বে দল থেকে বহিষ্কার করা হবে।
এদিকে পশ্চিম বর্ধমান, পুরুলিয়া ও বাঁকুড়ার বিভিন্ন স্থানে তৃণমূলের দলীয় কার্যালয় দখল ও ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। পশ্চিম বর্ধমান জেলা তৃণমূল সভাপতি নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী অভিযোগ করে বলেন, পুলিশের উপস্থিতিতেই তাঁদের কার্যালয় দখল হতে দেখা গেছে। তাঁর দাবি, কেন্দ্রীয় বাহিনী ও নির্বাচন কমিশন এ ঘটনায় নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছে।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। আপনিই প্রথম মন্তব্য করুন!
আপনার মতামত দিন