প্রবাসীকল্যাণ ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর বলেছেন, মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার খোলার জন্য সরকার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে দেশটির দেওয়া শর্ত পূরণ না হওয়ায় এখনো তা সম্ভব হয়নি। শর্তগুলো নিয়ে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা চলছে। আলোচনা ফলপ্রসূ হলে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার খুলবে।
বুধবার দুপুরে প্রবাসী ভবনে আয়োজিত অভিবাসী সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
নুরুল হক নুর বলেন, মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার খোলার বিষয়ে অতীতে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা আসিফ নজরুলসহ সরকারের পক্ষ থেকে উচ্চপর্যায়ে দুই দেশের প্রতিনিধিদের সফর হয়েছে। তবে বাজার এখনো খোলা যায়নি।
তিনি জানান, মালয়েশিয়া ১০টি শর্ত দিয়েছিল। ওই শর্ত অনুযায়ী এজেন্সির তালিকা করলে মাত্র ছয় থেকে সাতটি প্রতিষ্ঠান যোগ্যতা অর্জন করে। পরে মন্ত্রণালয় সাতটি শর্ত মানার কথা জানায়। এরপর ৪২৩টি এজেন্সির একটি তালিকা করা হয়। এর বাইরে অন্য কোনো এজেন্সি শর্ত পূরণ করতে পারেনি।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, মালয়েশিয়ার দেওয়া ১০টি শর্ত পুরোপুরি মানলে বাংলাদেশের অধিকাংশ রিক্রুটিং এজেন্সি তালিকার বাইরে চলে যায়। সে কারণে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে চিঠিপত্র আদান-প্রদান ও তৎপরতার মাধ্যমে শর্তগুলো নিয়ে সমন্বয়ের চেষ্টা করা হয়। পরে ছয়টি মূল শর্তের সঙ্গে অতিরিক্ত কিছু মানদণ্ড মিলিয়ে যোগ্য এজেন্সিগুলোর ৪২৩টি প্রতিষ্ঠানের তালিকা মালয়েশিয়ায় পাঠানো হয়।
তিনি জানান, দেশে অনুমোদিত এজেন্সির সংখ্যা প্রায় দুই হাজার। তবে এর মধ্যে ৪৫০ থেকে ৫০০টির কার্যক্রম পরিচালনার যোগ্যতা নেই। বাকিগুলোর মধ্যেও কিছু লাইসেন্সধারী এজেন্সি প্রতারণা বা স্ক্যামের সঙ্গে জড়িত রয়েছে বলে জানান তিনি।
কম্বোডিয়ায় কর্মী পাঠানোর জন্য এজেন্সিগুলোর ফাইল নিয়ে ব্যাপক তদবির আসছে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, কম্বোডিয়ার অর্থনৈতিক অবস্থা খুব ভালো নয় এবং দেশটি বাংলাদেশের তুলনায় খুব বেশি উন্নতও নয়। তারপরও কম্বোডিয়ার ফাইল ছাড়ের জন্য বিভিন্ন পরিচিত ব্যক্তি, রাজনৈতিক মহল, সাংবাদিক ও কমিউনিটি থেকে তদবির আসছে।
রাজনৈতিক বিবেচনা ও ব্যক্তিগত কৃতিত্ব নেওয়ার উদ্দেশ্যে অনেকেই ট্রেনিং সেন্টার স্থাপনের সুপারিশ করছেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি। প্রতিমন্ত্রী জানান, বর্তমানে দেশে ১১০টি টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টার রয়েছে। আরও ৪০ থেকে ৫০টি স্থাপনের পরিকল্পনা আছে।
তবে অনেক ক্ষেত্রে কোনো এমপি বা উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তা নিজেদের এলাকায় প্রতিষ্ঠান স্থাপনের উদ্যোগ নিচ্ছেন, কিন্তু সেখানে আদৌ প্রয়োজন আছে কি না, তা যাচাই করা হচ্ছে না বলে জানান তিনি।
নুরুল হক নুর বলেন, দেশে ১১০টি ট্রেনিং সেন্টার থাকলেও অনেক জায়গায় প্রশিক্ষণ নেওয়ার মতো লোক পাওয়া যায় না। অনেক কেন্দ্রে প্রশিক্ষক বা প্রশিক্ষণার্থীর যথেষ্ট উপস্থিতি নেই। সাম্প্রতিক সংসদ অধিবেশনে অনেক এমপি ডিও লেটার দিয়েছেন। কিন্তু বাস্তবে যাচাই করলে দেখা যায়, অনেক স্থানে এসব ট্রেনিং সেন্টারের প্রয়োজন নেই।
তিনি আরও বলেন, উপজেলা পর্যায়ে পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণার্থী না থাকলেও রাজনৈতিক বিবেচনা বা তদবিরের কারণে সুপারিশ দেওয়া হয়। তবে সরকার এখন যেসব ট্রেনিং সেন্টারে চাহিদা আছে, সেগুলোকে আরও আধুনিক ও সুসজ্জিত করে সুবিধা বাড়ানোর চেষ্টা করছে। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর সুনির্দিষ্ট নির্দেশনাও রয়েছে।
অভিবাসী কর্মী উন্নয়ন প্রোগ্রাম (ওকাপ) আয়োজিত সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএমইটির অতিরিক্ত মহাপরিচালক আশরাফ হোসেন, প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব সাইফুল হক চৌধুরী, সুইজারল্যান্ডে বাংলাদেশ দূতাবাসের রিজিওনাল প্রোগ্রাম ম্যানেজার নাজিয়া হায়দার, হেলভেটাস বাংলাদেশের প্রকল্প পরিচালক প্রেমাংশু শেখর সরকার, আইএলওর কান্ট্রি ডিরেক্টর ম্যাক্স টুনন, বিলসের নির্বাহী পরিচালক সৈয়দ সুলতান উদ্দিন আহমেদ এবং ওকাপের নির্বাহী পরিচালক ওমর ফারুক।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। আপনিই প্রথম মন্তব্য করুন!
আপনার মতামত দিন