যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের শান্তি আলোচনা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে আবারও বেড়েছে অপরিশোধিত তেলের দাম।
রোববার (১০ মে) ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৩ দশমিক ১৪ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০৪ দশমিক ৪৭ ডলারে পৌঁছেছে। একই সময়ে মার্কিন অপরিশোধিত তেলের দাম ৩ দশমিক ২৪ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৯৮ দশমিক ৫১ ডলারে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান শান্তি আলোচনা কার্যত অচলাবস্থায় পড়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এর জেরে মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেল পরিবহন স্বাভাবিক হতে কত সময় লাগবে, তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
জাতিসংঘে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক ওয়াল্টজ ফক্স নিউজ সানডেকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র তাদের সর্বশেষ প্রস্তাবে একটি ‘স্পষ্ট রেড লাইন’ নির্ধারণ করেছে। তবে ইরান সেই প্রস্তাবের জবাব দিলেও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সেটিকে ‘সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন।
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে কোনো শান্তি চুক্তি না হওয়ায় বিশ্বের মোট তেল ও গ্যাস পরিবহনের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ বহনকারী হরমুজ প্রণালী পুনরায় পুরোপুরি সচল হওয়ার সম্ভাবনা আরও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, দেশটির এক জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তা সতর্ক করে বলেছেন, ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা দেশগুলোর জাহাজ হরমুজ প্রণালী অতিক্রমের সময় ‘সমস্যার মুখে’ পড়তে পারে।
অন্যদিকে, ইরানি জাহাজ ও বন্দরগুলোর ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নৌ-অবরোধ অব্যাহত রয়েছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। গত শুক্রবার অবরোধ ভাঙার চেষ্টার সময় ইরানি পতাকাবাহী দুটি তেলবাহী ট্যাংকারে মার্কিন বাহিনীর হামলার খবরও পাওয়া গেছে।
যুদ্ধ শুরুর পর থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি প্রায় ২০ ডলার বেড়েছে। একই সঙ্গে মার্কিন অপরিশোধিত তেলের দামও বেড়েছে প্রায় ১০ ডলার। এর প্রভাব পড়ছে সাধারণ ভোক্তাদের ওপরও।
আমেরিকান অটোমোবাইল অ্যাসোসিয়েশনের (এএএ) তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে বর্তমানে প্রতি গ্যালন জ্বালানির গড় দাম ৪ দশমিক ৫২ ডলারে পৌঁছেছে। যুদ্ধ শুরুর আগে যা ছিল ৩ ডলারেরও নিচে।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। আপনিই প্রথম মন্তব্য করুন!
আপনার মতামত দিন