ফেনীতে আদালতের এজলাসেই বিষপান করে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন তাহমিনা আক্তার মোহনা নামে এক নারী বিচারপ্রার্থী। পরে গুরুতর অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ফেনী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
রোববার (১০ মে) দুপুরে জেলা ও দায়রা জজ আদালতের ফুলগাজী আমলী আদালতে এ ঘটনা ঘটে।
জানা গেছে, প্রেমের সম্পর্কের জেরে ২০২৫ সালে ফুলগাজী উপজেলার আকবর হোসেনকে বিয়ে করেন মোহনা। তবে বিয়ের পর থেকেই তাদের মধ্যে দাম্পত্য কলহ শুরু হয়। মোহনার অভিযোগ, বিয়ের আগে তিনি জানতেন না আকবরের আগের সংসারে স্ত্রী ও সন্তান রয়েছে।
মোহনার দাবি, বিয়ের পর স্বামী ও তার পরিবারের সদস্যদের হাতে তিনি একাধিকবার নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। এ ঘটনায় চলতি বছরের ২৯ জানুয়ারি স্বামীর বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেন তিনি।
রোববার ছিল মামলার ধার্য তারিখ। শুনানির সময় মোহনা ও তার স্বামী আকবর হোসেন আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শুনানি শেষে আদালত আকবর হোসেনকে জামিন দিলে ক্ষুব্ধ হয়ে আদালত কক্ষেই বিষপান করেন মোহনা। পরে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লে উপস্থিত আইনজীবী, পুলিশ ও আদালতের কর্মকর্তারা তাকে উদ্ধার করে ফেনী জেনারেল হাসপাতালে পাঠান।
বাদীপক্ষের আইনজীবী জহির উদ্দিন মামুন বলেন, দীর্ঘদিনের পারিবারিক কলহ, স্বামীর নির্যাতনের অভিযোগ এবং বিচার না পাওয়ার হতাশা থেকেই মোহনা এমন সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকতে পারেন।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মোহনা অভিযোগ করে বলেন, দুই বছর প্রেমের সম্পর্কের পর আকবর তাকে বিয়ে করেন। বিয়ের আগে তিনি আকবরের স্ত্রী-সন্তানের বিষয়টি জানতেন না। বিয়ের পর থেকে তিনি মারধর ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন বলেও দাবি করেন।
ফেনী জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. রোকন উদ্দৌলা বলেন, বিষক্রিয়ার লক্ষণ নিয়ে মোহনাকে হাসপাতালে আনা হয়। প্রাথমিক চিকিৎসা হিসেবে তার পাকস্থলী ওয়াশ করা হয়েছে। বর্তমানে তাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
ফেনীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মু. সাইফুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি পুলিশ অবগত হয়েছে। সম্ভবত ওই নারী তার স্বামীর বিরুদ্ধে যৌতুক আইনে মামলা করেছিলেন। মামলার ধার্য তারিখে আদালত তার স্বামীকে জামিন দিলে তিনি এজলাসে বিষপান করেন।
তিনি আরও বলেন, ঘটনাটি তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। আপনিই প্রথম মন্তব্য করুন!
আপনার মতামত দিন