প্রায় এক বছর অপেক্ষার পর অবশেষে বাজারে আসতে যাচ্ছে ‘ট্রাম্প মোবাইল’। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পরিবারের ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান ট্রাম্প অর্গানাইজেশন গত বছরের জুনে ফোনটি বাজারে আনার ঘোষণা দিয়েছিল।
তখন জানানো হয়েছিল, আগস্ট থেকে ফোনটি গ্রাহকদের হাতে পৌঁছাবে। আগ্রহীদের কাছ থেকে ১০০ ডলার করে জামানতও নেওয়া হয়। তবে এরপর দীর্ঘ সময় ফোনটি নিয়ে নতুন কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
অবশেষে ট্রাম্প মোবাইলের ওয়েবসাইটে জানানো হয়েছে, চলতি সপ্তাহেই স্বর্ণখচিত ট্রাম্প ফোন গ্রাহকদের কাছে পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হবে। ফোনটির আনুষ্ঠানিক নাম রাখা হয়েছে ‘ট্রাম্প মোবাইল টি১’। এর দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৪৯৯ ডলার।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্লেষকদের মতে ফোনটির নকশা অনেকটা চীনে নির্মিত টি-মোবাইল রেভেল ৭ প্রো ৫জি জিএসএম ফোনের মতো। ওয়ালমার্টে ওই ফোনটি ২০০ ডলারে বিক্রি হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে ট্রাম্প মোবাইলের ওয়েবসাইটে ফোন সরবরাহের ক্ষেত্রে ‘শর্তাধীনে’ ডেলিভারির কথা বলা হয়েছে। অর্থাৎ, যারা ১০০ ডলার জামানত দিয়ে প্রি-অর্ডার করেছিলেন, তারা সবাই ফোনটি পাবেন-এমন নিশ্চয়তা নেই। পরিবর্তিত শর্ত অনুযায়ী, জামানত রাখা মানেই ফোন পাওয়ার নিশ্চয়তা নয়; বরং এটি বিশেষ শর্তের আওতায় একটি সুযোগ।
ওয়েবসাইটে তথ্য প্রকাশের পর ফেসবুক পোস্টের মাধ্যমে ফোন ডেলিভারি শুরু হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে ট্রাম্প অর্গানাইজেশন। পোস্টে বলা হয়, যারা টি১ ফোন প্রি-অর্ডার করেছিলেন, তারা শিগগির ইমেইলে আপডেট পাবেন। এ সপ্তাহেই ফোনগুলো গ্রাহকদের কাছে পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হবে।
ট্রাম্প মোবাইলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা প্যাট ও’ব্রায়েন সিএনএনকে বলেন, গুণগত মান নিশ্চিত করতে দীর্ঘ সময় ধরে ফোনটি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়েছে। তার দাবি, ফোনটির চাহিদা বেশি থাকায় ধাপে ধাপে অর্ডার অনুযায়ী ডেলিভারি দেওয়া হচ্ছে। আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই অধিকাংশ ক্রেতা ফোনটি হাতে পাবেন বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
প্রযুক্তি গবেষণা প্রতিষ্ঠান ক্রিয়েটিভ স্ট্র্যাটেজিসের বিশ্লেষক ম্যাক্স ওয়েইনবাখ সিএনএনকে বলেন, একটি অ্যান্ড্রয়েড ফোন বাজারে আনতে সাধারণত দীর্ঘ সময় লাগে। সফটওয়্যার চূড়ান্ত করা, উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ও সংশ্লিষ্ট অংশীদারদের সঙ্গে চুক্তি করতে সময় প্রয়োজন হয়।
তবে ট্রাম্প মোবাইল নিয়ে সমালোচনাও রয়েছে। ঘোষণার সময় যেসব ফিচারের কথা বলা হয়েছিল, চূড়ান্ত মডেলে তার সব থাকছে না বলে জানা গেছে। এতে তুলনামূলক ছোট স্ক্রিন ও কম মেমোরি থাকতে পারে।
শুরুতে ফোনটির প্রচারণায় ‘মেইড ইন ইউএসএ’ বলা হলেও পরবর্তীতে ওই দাবি থেকে সরে আসে ট্রাম্প অর্গানাইজেশন। পরে প্রতিষ্ঠানটি জানায়, ফোনটি ‘মার্কিন মূল্যবোধ মাথায় রেখে’ তৈরি করা হয়েছে।
মোবাইল ফোন খাতের কয়েকজন বিশ্লেষক শুরু থেকেই ‘মেইড ইন ইউএসএ’ দাবির বিষয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছিলেন। তাদের মতে, ফোনের ডিজাইন ও ফিচারের সঙ্গে চীনে নির্মিত অন্য একটি ফোনের মিল রয়েছে।
ইন্টারন্যাশনাল ডেটা করপোরেশনের ওয়ার্ল্ডওয়াইড ডিভাইস ট্র্যাকার বিভাগের ভাইস প্রেসিডেন্ট রায়ান রেইথ সিএনএনকে বলেন, এ ধরনের শব্দ অনেক সময় বিভ্রান্তি তৈরি করতে পারে। ফোন তৈরির প্রক্রিয়ায় নকশা, যন্ত্রাংশ সংগ্রহ ও উৎপাদনের মতো একাধিক ধাপ থাকে।
ফোনটি নিয়ে আরেকটি সমালোচনা হলো, ট্রাম্প বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হওয়ায় নিজের নাম ব্যবহার করে ব্র্যান্ড তৈরি ও পণ্য বিক্রির নৈতিকতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তবে ফোন বিতরণের সঙ্গে ট্রাম্প নিজে নন, তার দুই ছেলে এরিক ট্রাম্প ও ডোনাল্ড ট্রাম্প জুনিয়র যুক্ত রয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ফোনটির ডেটা ও ভয়েস প্যাকেজের মূল্য রাখা হয়েছে ৪৭ ডলার ৪৫ সেন্ট। ট্রাম্পকে যুক্তরাষ্ট্রের ৪৫তম ও ৪৭তম প্রেসিডেন্ট হিসেবে তুলে ধরতেই এই মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। আপনিই প্রথম মন্তব্য করুন!
আপনার মতামত দিন