হন্ডুরাসের প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নিয়েছেন ট্রাম্প-সমর্থিত ব্যবসায়ী নাসরি আসফুরা। শপথ নেওয়ার পর তিনি কর্মসংস্থান সৃষ্টি, অপরাধ দমন এবং শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবাসহ গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক সেবার মান উন্নয়নের অঙ্গীকার করেছেন। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (২৮ জানুয়ারি) দেশটির পার্লামেন্ট ভবনে একটি অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তার শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়।এতে অন্যান্য দেশের শীর্ষ পর্যায়ের প্রতিনিধিরা উপস্থিত না থাকলেও কূটনৈতিক মহল ও আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
শপথ গ্রহণের পর ৬৭ বছর বয়সী নতুন প্রেসিডেন্ট বলেন, 'আমাদের প্রিয় হন্ডুরাসের প্রতিটি প্রান্তে বাস্তব সমাধান পৌঁছে দিতে যে পূর্ণ অঙ্গীকার প্রয়োজন, তা নিয়েই আমি দেশ পরিচালনা করব।' যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নির্বাচনের আগে হন্ডুরাসের এই রক্ষণশীল প্রার্থীর পক্ষে প্রকাশ্যে সমর্থন দেওয়ার পর আসফুরার ক্ষমতায় উত্থান ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয়। ভোট গ্রহণের পর গণনা শেষ করতে কয়েক সপ্তাহ লেগে যায়।এরপর ফল ঘোষণায় দেখা যায়, খুব অল্প ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন তিনি। এক শতাংশেরও কম ব্যবধানে জয় পান আসফুরা। নির্বাচনে কারসাজির অভিযোগ তোলেন প্রতিদ্বন্দ্বীরা।
হন্ডুরাস কর্তৃপক্ষ জানায়, আসফুরা ৪০ দশমিক ২৭ শতাংশ ভোট পেয়ে জয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী রক্ষণশীল প্রার্থী সালভাদোর নাসরাল্লা পান ৩৯ দশমিক ৫৩ শতাংশ ভোট। নাসরাল্লা দাবি করে আসছেন, প্রকৃত প্রেসিডেন্ট তিনিই।
মঙ্গলবার আসফুরা বলেন, দক্ষতা বাড়াতে তিনি রাষ্ট্রযন্ত্রের আকার ছোট করবেন এবং দারিদ্র্যপীড়িত জনগোষ্ঠীকে সহায়তা দেবেন। দেশজুড়ে গ্যাং সহিংসতা অব্যাহত থাকায় তিনি নিরাপত্তাহীনতার মোকাবিলা করার অঙ্গীকার করেছেন।
একই সঙ্গে স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষায় বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন ৬৭ বছর বয়সী এই নেতা। কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে দেশে বিনিয়োগকারীদের আকর্ষণ এবং পৌরসভাগুলোর মধ্যে যোগাযোগ বাড়াতে অবকাঠামো উন্নয়নের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন তিনি।
আসফুরা ২০১৪ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত রাজধানী তেগুসিগালপার মেয়র হিসেবে দুই মেয়াদে দায়িত্ব পালন করেন।
তার আগে ২০১০-২০১৪ মেয়াদে পোরফিরিও লোবো সোসার প্রশাসনে তিনি হন্ডুরাস সামাজিক বিনিয়োগ তহবিলের সচিব ছিলেন। রক্ষণশীল ন্যাশনাল পার্টির প্রার্থী হিসেবে দ্বিতীয়বার চেষ্টায় তিনি প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হলেন।
এর আগে ২০২১ সালে তিনি বামপন্থী লিবার্টি অ্যান্ড রিফাউন্ডেশন পার্টির (লিব্রে) প্রার্থী ও সাবেক প্রেসিডেন্ট সিওমারা কাস্ত্রোর কাছে পরাজিত হয়েছিলেন।
আসফুরা সাবেক প্রেসিডেন্ট হুয়ান অরলান্দো এরনান্দেসের একই রাজনৈতিক দলের নেতা। সর্বশেষ নির্বাচন চলাকালে ট্রাম্পের ক্ষমা পাওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রের কারাগার থেকে মুক্তি পান এরনান্দেস। ২০২২ সালে ক্ষমতা ছাড়ার পর তাকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রত্যর্পণ করা হয়। যুক্তরাষ্ট্রে বিপুল পরিমাণ কোকেন পাচারের সঙ্গে জড়িত থাকার দায়ে তিনি ৪৫ বছরের কারাদণ্ড ভোগ করছিলেন। এই নির্বাচনের ফলকে লাতিন আমেরিকাজুড়ে ডানপন্থী রাজনীতির উত্থানের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এর আগে চিলির প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন কট্টর ডানপন্থী রাজনীতিক হোসে আন্তোনিও কাস্ত।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। আপনিই প্রথম মন্তব্য করুন!
আপনার মতামত দিন