তিস্তা প্রকল্প বাস্তবায়নের আশায় তিস্তাপাড়ের দুই কোটি মানুষ প্রধানমন্ত্রীর চীন সফরের অপেক্ষায় ছিলেন বলে মন্তব্য করেছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু।
রোববার (২৮ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেন।
ত্রাণমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী চীন সফরে যাওয়ার সময় তিনি গ্রামের বাড়িতে অবস্থান করছিলেন। সেখানে তিস্তাপাড়ের মানুষের মধ্যে সফরটি ঘিরে ব্যাপক আগ্রহ ও প্রত্যাশা দেখেছেন।
তিনি বলেন, “আমি নিজেও তিস্তার জন্য দীর্ঘদিন আন্দোলন করেছি। তিস্তাপাড়ের মানুষ এই সফরের জন্য কতটা অপেক্ষায় ছিলেন, তা আমি কাছ থেকে দেখেছি।”
চীনকে নদী ব্যবস্থাপনায় অভিজ্ঞ দেশ উল্লেখ করে আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, তিস্তার ভাঙন ও পানিসংকটে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ ভাগ্য পরিবর্তনের অপেক্ষায় রয়েছেন। তিস্তা প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে ওই অঞ্চলের মানুষের জীবনমান উন্নত হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
তার দাবি, তিস্তার কারণে দুই কোটি মানুষ ভূমিহীন, বাস্তুচ্যুত ও ছিন্নমূল হয়েছেন। প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে তাদের পুনর্বাসন এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নের সুযোগ তৈরি হবে।
প্রস্তাবিত বাজেট প্রসঙ্গে ত্রাণমন্ত্রী বলেন, একটি বাজেট সবার কাছে সমানভাবে গ্রহণযোগ্য হবে না। তবে এটিকে ‘গরিব মারার বাজেট’ হিসেবে আখ্যা দেওয়ার সমালোচনা করেন তিনি।
তিনি বলেন, বাজেটে হতদরিদ্র মায়েদের জন্য ফ্যামিলি কার্ড, কৃষকদের জন্য কৃষি কার্ড, ইমাম ও পুরোহিতদের সম্মানী ভাতা এবং খাল খনন কর্মসূচির মতো উদ্যোগ রাখা হয়েছে।
এসব কর্মসূচি দরিদ্র ও প্রান্তিক মানুষের কল্যাণে নেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, খাল খনন কর্মসূচি বাস্তবায়িত হলে কৃষকেরা সরাসরি উপকৃত হবেন।
বাজেট নিয়ে গতানুগতিক সমালোচনা থেকে বেরিয়ে এসে এর জনকল্যাণমূলক উদ্যোগগুলো বিবেচনা করার আহ্বান জানান ত্রাণমন্ত্রী।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। আপনিই প্রথম মন্তব্য করুন!
আপনার মতামত দিন