ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিভিন্ন আসনে ভোট কারচুপির অভিযোগের প্রতিকার চেয়ে উচ্চ আদালতে রিট করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য। একই সঙ্গে নির্বাচন উপলক্ষে গঠিত এই জোটকে ভবিষ্যতেও সংসদের ভেতরে ও বাইরে অটুট রাখার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন জোট নেতারা।
শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত ১১ দলীয় ঐক্যের এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন ১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক ও জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ। বৈঠকে জোটের শরিক দলগুলোর প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠক শেষে জোটের লিয়াজোঁ কমিটির মিডিয়া সমন্বয়ক এহসানুল মাহবুব জুবায়ের সাংবাদিকদের জানান, ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনের পরদিন গভীর রাতে তড়িঘড়ি করে গেজেট প্রকাশ করায় নির্বাচন সংক্রান্ত বিধান অনুযায়ী বহু আসনে পুনঃগণনার সুযোগ থেকে প্রার্থীরা বঞ্চিত হয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে যেসব আসনে কেন্দ্র দখল, ভোট জালিয়াতি ও গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে, সেগুলো চিহ্নিত করে প্রতিকার চেয়ে হাইকোর্টে রিট করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তিনি জানান, ৩০টিরও বেশি আসনে ভোট কারচুপির অভিযোগ রয়েছে। এসব বিষয়ে আগামীকাল ১৫ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন কমিশনে লিখিত অভিযোগ দাখিল করবে জোট।
বৈঠকে আরও সিদ্ধান্ত হয়, ১১ দলীয় ঐক্য কেবল নির্বাচনী জোট হিসেবে সীমাবদ্ধ থাকবে না। বরং দেশের স্বার্থ, জনগণের অধিকার ও গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার প্রশ্নে সংসদ ও সংসদের বাইরে যৌথভাবে আন্দোলন ও রাজনৈতিক ভূমিকা পালন করা হবে।
এছাড়া নির্বাচন-পূর্ব ও নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে ১১ দলীয় ঐক্যের নারী কর্মীদের ওপর হামলাসহ বিভিন্ন সহিংস ঘটনার তীব্র নিন্দা জানানো হয় বৈঠকে। সহিংসতা বন্ধ না হলে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে রাজপথে নামার হুঁশিয়ারিও দেন জোট নেতারা।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। আপনিই প্রথম মন্তব্য করুন!
আপনার মতামত দিন