যুক্তরাষ্ট্রে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পরিচয়ে ফোন করে অর্থ আদায়ের অভিযোগে সংঘবদ্ধ প্রতারণা চক্রের এক সন্দেহভাজন সদস্য গ্রেপ্তার হয়েছেন।
তিনি নিউ ইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের বাফেলো শহরে বসবাস করতেন। প্রবাসী এই বাংলাদেশির নাম নিয়ামত উল্লাহ (৩১) বাড়ি চাঁদপুর জেলায়।
রোববার ওয়েস্ট ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যের আপশোর কাউন্টিতে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়।
অভিযানে সমন্বয় করেন আপশোর কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের কর্মকর্তা মাইকেল কোফম্যান। তদন্তে সহযোগিতা করেন স্টেট অ্যাটর্নি জেনারেলের দপ্তরের কর্মকর্তারা।
কর্তৃপক্ষ জানায়, ২০ ফেব্রুয়ারি স্থানীয় একটি ব্যাংক থেকে সন্দেহজনক আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ পাওয়া যায়। এর ভিত্তিতে তদন্ত শুরু হয়। অনুসন্ধানে অভিযোগ ওঠে, নিয়ামত উল্লাহসহ একটি চক্র নিজেদের 'নর্টন অ্যান্টিভাইরাস' সফটওয়্যারের প্রতিনিধি পরিচয় দিয়ে ভুক্তভোগীদের সঙ্গে যোগাযোগ করত।
তারা দাবি করত, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি অনলাইনে অনুপযুক্ত ওয়েবসাইটে প্রবেশ করেছেন এবং সেই অভিযোগে অর্থ পরিশোধ করতে হবে। তদন্তে এসব দাবি ভুয়া বলে প্রমাণিত হয়েছে।
অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী একটি নিয়ন্ত্রিত অর্থ হস্তান্তর পরিকল্পনা করে এবং নির্ধারিত স্থানে নজরদারি বসায়। ২০ ফেব্রুয়ারি সন্দেহভাজন উপস্থিত না হলেও সময় পরিবর্তন করে ২১ ফেব্রুয়ারি সকালে অর্থ গ্রহণের কথা জানানো হয়। নির্ধারিত সময়ে অর্থ নিতে এলে তাকে আটক করা হয়।
কর্তৃপক্ষের দাবি, তার ব্যবহৃত গাড়ি থেকে এক লাখ ৩০ হাজার ডলারের বেশি নগদ অর্থ, স্বর্ণমুদ্রা এবং একাধিক ইলেকট্রনিক ডিভাইস উদ্ধার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারের সময় তিনি কোনো বাধা দেননি।
নিয়ামত উল্লাহর বিরুদ্ধে একাধিক ফৌজদারি অভিযোগ আনা হয়েছে। তাকে টাইগার্ট ভ্যালি আঞ্চলিক কারাগারে পাঠানো হয়েছে। আদালত সাড়ে ৬ লাখ ডলার নগদ বন্ডে জামিন মঞ্জুর করলেও শুক্রবার পর্যন্ত বন্ড জমার তথ্য পাওয়া যায়নি।
আপশোর কাউন্টি শেরিফের দপ্তর জানিয়েছে, মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। ওয়েস্ট ভার্জিনিয়া স্টেটের অ্যাটর্নি জেনারেলের দপ্তর, এফবিআই এবং সংশ্লিষ্ট অভিবাসন কর্তৃপক্ষ যৌথভাবে তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
স্থানীয় গণমাধ্যমে বাংলাদেশি নাগরিক গ্রেপ্তারের খবর প্রকাশের পর প্রবাসী কমিউনিটিতে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, প্রতারণার শিকার হয়ে বহু ভুক্তভোগী আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। ব্যাংক ও ক্রেডিট কার্ড কোম্পানির ভূমিকা নিয়েও কেউ কেউ প্রশ্ন তুলেছেন।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। আপনিই প্রথম মন্তব্য করুন!
আপনার মতামত দিন