যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য আইনের ৩০১ ধারার আওতায় নতুন শুল্ক আরোপের প্রস্তুতির কারণে বাংলাদেশের রপ্তানি খাত নতুন করে চাপে পড়তে পারে বলে জানিয়েছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)।
বৃহস্পতিবার প্রকাশিত ‘এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট আউটলুক, জুলাই ২০২৬’ প্রতিবেদনে এডিবি জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের এ ধরনের পদক্ষেপ শুধু বাণিজ্য ব্যয় বাড়াবে না, উন্নয়নশীল এশিয়াজুড়ে অনিশ্চয়তাও বাড়িয়ে তুলতে পারে।
এডিবির বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ৩০১ ধারার আওতায় প্রস্তাবিত পদক্ষেপ বাস্তবায়ন হলে উন্নয়নশীল এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের কার্যকর শুল্কহার ২৪ দশমিক ৮ শতাংশ থেকে বেড়ে ২৫ দশমিক ৯ শতাংশ হতে পারে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর ক্ষেত্রে শুল্কহার ১ দশমিক ২ শতাংশ পয়েন্ট এবং চীন নেতৃত্বাধীন উন্নয়নশীল পূর্ব এশিয়ার ক্ষেত্রে ১ দশমিক ৩ শতাংশ পয়েন্ট বাড়তে পারে।
৩০১ ধারার আওতায় পরিচালিত পর্যালোচনার পর যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে ৬০টি দেশের অর্থনীতির ওপর শুল্ক আরোপের প্রস্তাব করেছে।
গত ২ জুন যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধির দপ্তর (ইউএসটিআর) বাংলাদেশ, কম্বোডিয়া, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, পাকিস্তান ও চীনা তাইপের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের প্রস্তাবসংবলিত একটি সিদ্ধান্ত জারি করে।
এ ছাড়া জুনে পরিচালিত আরেকটি পর্যালোচনায় ইউএসটিআর বাংলাদেশ, ভারত, চীন, জাপান, যুক্তরাজ্য, ভিয়েতনাম ও থাইল্যান্ডসহ ৫৪টি দেশকে জোরপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত পণ্য আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা কার্যকরভাবে প্রয়োগে ব্যর্থ হিসেবে চিহ্নিত করেছে।
প্রস্তাবিত কাঠামো অনুযায়ী, যেসব দেশে জোরপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত পণ্য আমদানিতে আংশিক নিষেধাজ্ঞা রয়েছে অথবা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পারস্পরিক বাণিজ্য সম্পর্ক রয়েছে, সেসব দেশের ওপর অতিরিক্ত ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হতে পারে।
অন্যদিকে, যেসব দেশের এ ধরনের কোনো ব্যবস্থা নেই, সেসব দেশের রপ্তানি পণ্যের ওপর ১২ দশমিক ৫ শতাংশ পর্যন্ত অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের সম্ভাবনার কথা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এডিবি বলেছে, সাম্প্রতিক সময়ে বাণিজ্যনীতি নিয়ে কিছুটা স্বস্তি ফিরলেও অনিশ্চয়তা এখনো উচ্চ পর্যায়ে রয়েছে। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর বাণিজ্যনীতি অনিশ্চয়তা সূচক কিছুটা কমেছে। তবে ইউএসটিআরের তদন্তের ফলাফলের ওপর নির্ভর করবে কোন অর্থনীতি কতটা প্রভাবিত হবে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, পরবর্তী পদক্ষেপগুলোর পরিধি, মাত্রা ও কার্যকরের সময় এখনো নিশ্চিত নয়।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। আপনিই প্রথম মন্তব্য করুন!
আপনার মতামত দিন