ইউরোপীয় ইউনিয়ন–এর নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশনের প্রধান ইভার্স ইজাবস বলেছেন, ২০০৮ সালের পর অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন বিশ্বাসযোগ্যভাবে সম্পন্ন হয়েছে এবং এটি বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নির্বাচনের জন্য একটি নতুন বেঞ্চমার্ক স্থাপন করেছে।
শনিবার সকালে রাজধানীর একটি হোটেলে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রাথমিক মূল্যায়ন প্রতিবেদন উপস্থাপনকালে তিনি এ মন্তব্য করেন। ইভার্স ইজাবস বলেন, নির্বাচনটি সত্যিকার অর্থেই প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক ছিল এবং বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছভাবে দায়িত্ব পালন করেছে। তবে অপতথ্যের বিস্তার নির্বাচনী পরিবেশে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, প্রার্থীরা সামগ্রিকভাবে স্বাধীনভাবে প্রচারণা চালাতে পারলেও রাজনৈতিক দলগুলোর অভ্যন্তরীণ কোন্দল দৃশ্যমান ছিল।
ইইউ পর্যবেক্ষণ মিশনের প্রধান জানান, নির্বাচন কমিশন স্টেকহোল্ডারদের আস্থা বজায় রেখে এবং নির্বাচনের অখণ্ডতা সমুন্নত রেখে স্বচ্ছভাবে কাজ করেছে। মিশনের মূল্যায়নে বলা হয়, বিদ্যমান নির্বাচনী আইনি কাঠামো গণতান্ত্রিক নির্বাচন পরিচালনার উপযোগী এবং ২০২৫ সালের সংশোধনীগুলো অন্তর্ভুক্তি ও বিশ্বাসযোগ্যতা জোরদার করেছে। তবে আইনি নিশ্চয়তা বৃদ্ধি এবং প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহি ও স্বচ্ছতা ক্ষুণ্ন করে এমন ফাঁকফোকর বন্ধে আরও সংস্কার প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন, সদ্য নিযুক্ত নির্বাচন কমিশন জনগণের আস্থা পুনর্গঠনে সক্রিয় দৃষ্টিভঙ্গি নিয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারসহ অন্যান্য স্টেকহোল্ডারদের সমর্থনে কমিশন স্বচ্ছতার সঙ্গে কাজ করেছে, গণমাধ্যমের প্রশ্নের দ্রুত জবাব দিয়েছে, জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট তথ্য প্রকাশ করেছে এবং রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে নিয়মিত সংলাপ চালিয়ে গেছে।
তবে নারী প্রতিনিধিত্ব নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেন ইভার্স ইজাবস। তাঁর মতে, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের মধ্যে মাত্র ৪ শতাংশ নারী ছিলেন। বিএনপি ১০ জন এবং এনসিপি দুইজন নারী প্রার্থী দিলেও জামায়াতে ইসলামীসহ আরও ৩০টি দল কোনো নারী প্রার্থী দেয়নি। জুলাই সনদে প্রতিশ্রুতি থাকা সত্ত্বেও জাতীয় রাজনীতিতে নারীদের এগিয়ে নেওয়ার রাজনৈতিক সদিচ্ছার ঘাটতি স্পষ্ট—যার পেছনে পুরুষতন্ত্র, বৈষম্য এবং ডিজিটাল ও শারীরিক হয়রানি বড় বাধা হিসেবে কাজ করেছে।
প্রতিবেদনে আদিবাসী ও ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উদ্বেগও উঠে আসে। রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে বিশেষ ব্যবস্থার অভাব, অনলাইনসহ জনপরিসরের বক্তব্যে ক্রমবর্ধমান ধর্মীয় আভাস এবং শারীরিক সহিংসতার আশঙ্কা তাদের হতাশ করেছে।
সহিংসতার চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহে বিক্ষিপ্ত রাজনৈতিক সহিংসতা সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছালেও ঘটনাগুলো স্থানীয় পর্যায়ে সীমাবদ্ধ ছিল এবং কোনো নিয়মতান্ত্রিক প্যাটার্ন দেখা যায়নি। ইইউ ইলেকশন অবজারভেশন মিশন শারীরিক সহিংসতার সঙ্গে জড়িত প্রায় ৫৬টি ঘটনার তথ্য পেয়েছে; এতে ২৭টি জেলায় কমপক্ষে ২০০ জন হতাহত হয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের তথ্যমতে, নির্বাচন ঘোষণার পর থেকে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। আপনিই প্রথম মন্তব্য করুন!
আপনার মতামত দিন