ঢাকার মিরপুর-১৩ এলাকায় যুবদল কর্মী ইউসুফ আলি পারভেজ (৪৫) হত্যা মামলায় জড়িত থাকার অভিযোগে মাগুরার শালিখা উপজেলা থেকে জিয়াউর রহমান রাজু নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
গ্রেপ্তার রাজু শালিখা উপজেলার শতখালি গ্রামের আনোয়ার পাটোয়ারির ছেলে।
পুলিশ জানায়, কাফরুল থানা যুবদলের সদস্যসচিব হাফিজুল ইসলাম বাবুর বাসার পাশের একটি চায়ের দোকানে আড্ডা দেওয়ার সময় একদল সশস্ত্র দুর্বৃত্ত হামলা চালায়। এ সময় এলোপাতাড়ি গুলিতে ইউসুফ আলি পারভেজ ঘটনাস্থলেই নিহত হন।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, হামলায় চারজন অংশ নিয়েছিল। ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন ধাওয়া করে চঞ্চল নামে একজনকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন।
এ ঘটনায় নিহতের বড় ভাই মাসুদ রানা বাদী হয়ে কাফরুল থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। মামলার অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, তার ভাই হামলার মূল লক্ষ্য ছিলেন না। হাফিজুল ইসলাম বাবুর সঙ্গে চলাফেরা করার কারণে তিনি হামলার শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ করা হয়।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের অভ্যন্তরীণ বিরোধের জেরে হত্যাকাণ্ডটি ঘটতে পারে।
আটক চঞ্চলের দেওয়া তথ্যের বরাতে পুলিশ জানায়, হামলায় অংশ নিতে মাগুরা-ঝিনাইদহ অঞ্চল থেকে চারজনকে ভাড়া করা হয়েছিল। ওই তথ্যের সূত্র ধরে শনিবার রাতে শালিখার শতখালি গ্রাম থেকে জিয়াউর রহমান রাজুকে গ্রেপ্তার করা হয়।
স্থানীয় সূত্রের দাবি, রাজু এলাকায় অবৈধ অস্ত্রধারী হিসেবে পরিচিত। ২০১৪ সালে শালিখার শতখালি এলাকায় নসিমনচালক আব্বাস হত্যা মামলায়ও তিনি অভিযুক্ত ছিলেন এবং দীর্ঘদিন কারাভোগ করেছেন।
রাজুকে গ্রেপ্তারের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার কয়েকটি ছবি ছড়িয়ে পড়ে। কয়েকটি ছবিতে তাকে মাগুরা-২ আসনের সংসদ সদস্য ও সংস্কৃতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট নিতাই রায় চৌধুরী, জেলা বিএনপি নেতা মনিরুজ্জামান চকলেট, ইঞ্জিনিয়ার মিজান পাটোয়ারি এবং শালিখা উপজেলা কৃষক দলের সভাপতি ইলিয়াস হোসেনের সঙ্গে দেখা যায়। আরেকটি ছবিতে তাকে আগ্নেয়াস্ত্র হাতে একটি বাগানে অবস্থান করতে দেখা গেছে বলে দাবি করা হয়েছে।
এ বিষয়ে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ও শালিখা উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্যসচিব মনিরুজ্জামান চকলেট বলেন, “২০১৪ সালে সরকারবিরোধী আন্দোলনের সময় কারাগারে রাজুর সঙ্গে পরিচয় হয়েছিল। এলাকায় সে সন্ত্রাসী হিসেবেই পরিচিত। তার সঙ্গে আমার কোনো রাজনৈতিক বা ব্যক্তিগত সম্পর্ক নেই। বিএনপির কোনো কমিটিতেও সে নেই। একটি অনুষ্ঠানে আমার সঙ্গে তোলা একটি ছবি নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি করা হচ্ছে।”
শালিখা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশিকুর রহমান গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল কাফরুল থানায় করা মামলায় রাজুকে গ্রেপ্তার করেছে। তবে মামলার তদন্তসংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য শালিখা থানার কাছে নেই।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। আপনিই প্রথম মন্তব্য করুন!
আপনার মতামত দিন