স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের প্রার্থী হওয়ার অযোগ্য ঘোষণাসহ একগুচ্ছ নতুন সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। কমিশনের এসব সিদ্ধান্ত নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
ইসির সিদ্ধান্ত এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের সাংবিধানিক ও নাগরিক অধিকার ক্ষুণ্ন করবে বলে মনে করছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।
দলটির সহকারী সেক্রেটারি হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, “এটা অন্যদের অধিকার ক্ষুণ্ন করতে যাচ্ছে বলে আমি মনে করি। কারণ, এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা যদি সিদ্ধান্ত নিয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেন, সে ক্ষেত্রে আইনগত কোনো বাধা নেই এবং অতীতেও তা ছিল না। এখন আইন করে এতে হস্তক্ষেপ করা হলে তা তাদের অধিকারের ওপর হস্তক্ষেপ হয়ে যায়।”
তবে ভিন্ন মত জানিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। দলটি ইসির এ সিদ্ধান্তকে ইতিবাচক অগ্রগতি হিসেবে দেখছে।
এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজিব ভূঁইয়া বলেন, “তারা নির্বাচনে অংশ নিলে একধরনের স্বার্থের সংঘাত তৈরি হতে পারে। তাই সিদ্ধান্তটিকে আমি মোটামুটি ইতিবাচক হিসেবেই দেখছি।”
স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সেনাবাহিনী মোতায়েনের বিষয়টি আইনি কাঠামোর আওতায় আনার প্রস্তাবেরও প্রশংসা করেন তিনি।
আসিফ মাহমুদ বলেন, “সাধারণত একটি আদেশ জারির মাধ্যমে সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়। কিন্তু বিষয়টিকে আইনের আওতায় আনার বিষয়ে ইসি প্রাথমিকভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আমার মনে হয়, এটি ভালো উদ্যোগ। এর মাধ্যমে বিষয়টিকে একটি নির্দিষ্ট কাঠামোর মধ্যে আনা যাবে।”
তবে সিদ্ধান্তগুলো কতটা বাস্তবায়িত হবে, তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেন এনসিপির মুখপাত্র। তিনি বলেন, “এখন এটি কতটা বাস্তবায়ন হয় এবং সরকারের কতটা সদিচ্ছা আছে, সেটিই দেখার বিষয়। বাংলাদেশে যে সরকারই ক্ষমতায় আসে, তাদের মধ্যে স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলো দখলে নেওয়ার প্রবণতা দেখা যায়। এর মাধ্যমে জাতীয় সরকারের ক্ষমতা দীর্ঘায়িত করার চেষ্টা করা হয়।”
অন্যদিকে, জাতীয় নির্বাচনে প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কাজ করতে না পারার অভিযোগ তুলে নির্বাচন কমিশনের প্রতি অনাস্থা প্রকাশ করেছেন জামায়াত নেতা হামিদুর রহমান আযাদ।
তিনি বলেন, “জাতীয় নির্বাচনে প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কাজ করতে পারেনি ইসি। তাই তাদের কাছে নতুন করে ভালো কিছু প্রত্যাশা নেই জামায়াতে ইসলামীর।”
তিনি আরও বলেন, “একটি ভালো নির্বাচন হতে হবে-এ দাবি আমরা দীর্ঘদিন ধরে করে আসছি। এবার তারা কী করেন, সেটি দেখার বিষয়। ভালো নির্বাচন করতে পারলে তাদের প্রতি আস্থা ফিরে আসতে পারে।”
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। আপনিই প্রথম মন্তব্য করুন!
আপনার মতামত দিন