ঘরের মাঠে শেষ ম্যাচটাও স্মরণীয় করে রাখল সিলেট টাইটান্স। তারকাসমৃদ্ধ রংপুর রাইডার্সকে ৬ উইকেটে হারিয়ে টুর্নামেন্টের পয়েন্ট টেবিলে দ্বিতীয় স্থানে উঠে গেছে মেহেদী হাসান মিরাজের দল। ১৫ বল হাতে রেখেই সহজ জয় নিশ্চিত করে স্বাগতিকরা।
এটি সিলেটের নবম ম্যাচে পঞ্চম জয়। ১০ পয়েন্ট নিয়ে তারা চতুর্থ স্থান থেকে উঠে এসেছে দুইয়ে। অন্যদিকে অষ্টম ম্যাচে চতুর্থ হারে নেমে গেছে নুরুল হাসান সোহানের রংপুর রাইডার্স।
সোমবার (১২ জানুয়ারি) সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় সিলেট। তবে শুরু থেকেই চাপে পড়ে রংপুর। সিলেটের বোলারদের নিয়ন্ত্রিত আক্রমণে ১৯.১ ওভারে মাত্র ১১৪ রানেই অলআউট হয় সফরকারীরা।
ইনিংসের শুরুতেই কাইল মায়ার্সকে শূন্য রানে ফিরিয়ে দেন সিলেটের বোলাররা। দ্রুত ২৭ রানের মধ্যে ৩ উইকেট হারায় রংপুর। আগের ম্যাচে ৯৭ রান করা তাওহিদ হৃদয়ও ব্যর্থ হন। নিয়মিত বিরতিতে উইকেট পড়তে থাকায় বড় সংগ্রহ গড়তে পারেনি রাইডার্স।
৬৭ রানে চার উইকেট হারানোর পর ৭৬ রানে পড়ে পঞ্চম উইকেট। এরপর মাত্র ২০ রানের ব্যবধানে আরও চার উইকেট হারিয়ে ১০০ রানের আগেই অলআউটের শঙ্কা তৈরি হয়। তবে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের ২৯ রানের ইনিংসে ভর করে ১১৪ রানে গুটিয়ে যায় রংপুর। খুশদিল শাহ করেন সর্বোচ্চ ৩০ রান। লিটন দাসের ব্যাট থেকে আসে ২২ রান, ইফতিখার আহমেদ করেন ১৭। তিন ব্যাটার ফেরেন শূন্য রানে।
সিলেটের হয়ে বল হাতে উজ্জ্বল ছিলেন নাসুম আহমেদ ও শহিদুল ইসলাম—দুজনই নেন তিনটি করে উইকেট। মঈন আলী শিকার করেন দুটি এবং একটি উইকেট নেন সালমান ইরশাদ।
সহজ লক্ষ্য তাড়ায় সাবলীল শুরু পায় সিলেট। ওপেনার পারভেজ হোসেন ইমন ও তৌফিক খান ৪০ বলে ৫৪ রানের জুটি গড়েন। ২২ বলে ১ চার ও ৪ ছক্কায় ৩৩ রান করে ফেরেন তৌফিক। আরিফুল ইসলাম ২৬ বলে করেন ২১ রান।
শেষদিকে নাহিদ রানা এক ওভারে দুই উইকেট তুলে নিলে সামান্য নাটকীয়তা তৈরি হয়। আফিফ হোসেন (১২) ও ইথান ব্রুকস (০) দ্রুত ফিরলেও ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ তখনও সিলেটের হাতেই ছিল। শেষ পর্যন্ত ছক্কা মেরে ম্যাচ শেষ করেন ইমন। ৪১ বলে ৫২ রানের অপরাজিত ইনিংসে তিনটি করে চার ও ছক্কা হাঁকান তিনি।
এই জয়ে ঘরের মাঠে শেষ ম্যাচটি জয় দিয়ে শেষ করল সিলেট টাইটান্স, আর শীর্ষস্থানের লড়াইয়ে নিজেদের অবস্থান আরও শক্ত করল।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। আপনিই প্রথম মন্তব্য করুন!
আপনার মতামত দিন