জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনা সরকারের দায়িত্ব। সেই দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলে ক্ষমতায় থাকার কোনো যৌক্তিকতা থাকে না। জনগণ বিচার দেখতে চায়, কোনো অজুহাত শুনতে চায় না।
মঙ্গলবার দুপুরে সিলেট সদর উপজেলার সোনাতলা গ্রামে ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যার শিকার শিশু ফাহিমার পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে তিনি এসব কথা বলেন।
জামায়াত আমির বলেন, মানুষ যে প্রত্যাশা নিয়ে পরিবর্তন চেয়েছিল, তা পূরণ হয়নি। বাস্তবে দেশ ভালো নেই। হত্যা মামলার বিচার দীর্ঘসূত্রিতার দিকে গেলে মানুষের মনে বিচার পাওয়া নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়। তাই দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে হবে এবং ১৫ দিনের মধ্যে বিচার সম্পন্নের ঘোষণা দিতে হবে বলে দাবি জানান তিনি।
শিশু ফাহিমার হত্যাকাণ্ডের নিন্দা জানিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, একটি নিষ্পাপ শিশুকে তার বাবার চোখের সামনে থেকে কেড়ে নেওয়া হয়েছে। জাতি হিসেবে এটি অত্যন্ত লজ্জার। শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে না পারা সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য গভীর উদ্বেগের বিষয়।
তিনি বলেন, ক্ষমতায় গেলে বিনয়ী হওয়া উচিত। কারণ সরকার জনগণের সেবক ও পাহারাদার। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব অপরাধীদের খুঁজে বের করা এবং আইনমন্ত্রীর দায়িত্ব বিচার নিশ্চিত করা।
ডা. শফিকুর রহমান অভিযোগ করেন, ফাহিমা হত্যার ঘটনায় শুধু একজন ব্যক্তি নয়, আরও কেউ জড়িত থাকতে পারে। বিষয়টি তদন্ত করে জড়িত সবাইকে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, ফাহিমা হত্যার ঘটনার ২৮ দিন পেরিয়ে গেলেও এখনো চার্জশিট দাখিল হয়নি। এতে বিচারপ্রক্রিয়া নিয়ে জনমনে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। স্থানীয় পুলিশ দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলে তাদের সেখানে থাকার প্রয়োজন নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ঢাকার রামিসা হত্যার বিচার দ্রুত শেষ করার ঘোষণার প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, ফাহিমা হত্যার বিচারও দ্রুত শেষ করার উদ্যোগ নিতে হবে। এ বিষয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর ভূমিকা প্রত্যাশা করেন তিনি।
ফাহিমার পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়ে জামায়াত আমির বলেন, জামায়াতে ইসলামী আইনি ও মানবিক সহায়তাসহ সব ধরনের সহযোগিতা করবে। একই সঙ্গে এলাকাবাসীকেও পরিবারটির পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।
বর্তমান সরকারের ১০০ দিনের কর্মকাণ্ড নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, এ বিষয়ে বিস্তারিত মূল্যায়ন তিনি জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে করবেন। তবে তার ভাষ্য, মানুষ যে প্রত্যাশা নিয়ে পরিবর্তন চেয়েছিল, বাস্তবে দেশ এখনো সেই প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি।
জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধিরও সমালোচনা করেন তিনি। ডা. শফিকুর রহমান বলেন, এক মাসের ব্যবধানে পেট্রোল, অকটেন ও কেরোসিনের দাম লিটারে ৫ টাকা বাড়ানো জনগণের ওপর বাড়তি বোঝা চাপানোর শামিল। তেলের দাম বাড়লে পরিবহন ব্যয় বাড়বে, যার প্রভাব পড়বে নিত্যপণ্যের বাজারে। এতে ধনী-গরিব নির্বিশেষে সবাই ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
তিনি বলেন, সংসদে আলোচনা না করে এভাবে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো জনগণের সঙ্গে প্রতারণার শামিল।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। আপনিই প্রথম মন্তব্য করুন!
আপনার মতামত দিন