বাংলাদেশে জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় প্রথমবারের মতো ‘অ্যাডাপটেশন কমপ্লেক্স’ নির্মাণ করছে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ব্র্যাক। ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস ও তীব্র তাপপ্রবাহসহ বিভিন্ন জলবায়ু ঝুঁকি থেকে মানুষের জীবন ও জীবিকা সুরক্ষায় এই কমপ্লেক্স গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।
ব্র্যাক জানায়, এই অ্যাডাপটেশন কমপ্লেক্স শুধু দুর্যোগকালীন আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবেই নয়, বরং স্বাভাবিক সময়েও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জন্য বহুমুখী ব্যবহারের সুযোগ তৈরি করবে। এটি জলবায়ু সহনশীল অবকাঠামো উন্নয়নের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ও দক্ষিণ এশিয়ার জন্য একটি কার্যকর মডেল হিসেবে কাজ করবে।
ব্র্যাকের উদ্যোগে কমপ্লেক্সটি নির্মিত হচ্ছে ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি (এমআইটি) এবং কমিউনিটি জামিলের সহযোগিতায় গঠিত জামিল অবজারভেটরি ফর ফুড সিকিউরিটির আওতাধীন ‘আর্লি ওয়ার্নিং সিস্টেম নেটওয়ার্ক’-এর সহায়তায়।
সংস্থাটি জানায়, দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে তাপপ্রবাহের মাত্রা ও স্থায়িত্ব দিন দিন বাড়ছে। এই কমপ্লেক্সের মাধ্যমে বিদ্যালয় ও ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্রগুলোকে এমনভাবে রূপান্তর করা হবে, যাতে তীব্র তাপপ্রবাহের সময় এগুলো নিরাপদ ও শীতল আশ্রয়স্থল হিসেবে ব্যবহার করা যায়। পাশাপাশি এটি স্থানীয় জনগণের জন্য জলবায়ু সহনশীলতার কেন্দ্র হিসেবেও কাজ করবে।
প্রকল্পটি সফল হলে পর্যায়ক্রমে সারা দেশে প্রায় দুই হাজার অ্যাডাপটেশন কমপ্লেক্স স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। এর মাধ্যমে প্রায় ৫০ লাখ মানুষের জন্য তাপপ্রবাহ ও অন্যান্য জলবায়ু ঝুঁকি থেকে সুরক্ষা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে বলে মনে করছে ব্র্যাক।
প্রকল্পটির সহযোগী কমিউনিটি জামিলের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আব্দুল লতিফ জামিল বলেন, “বাংলাদেশে এই প্রথম এমন একটি সমন্বিত অ্যাডাপটেশন কমপ্লেক্স নির্মাণ একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। এটি জলবায়ু ঝুঁকিতে থাকা মানুষের জীবনমান উন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।”
ব্র্যাক কর্তৃপক্ষের আশা, এই উদ্যোগের মাধ্যমে শুধু বাংলাদেশ নয়, বরং দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশও জলবায়ু অভিযোজন অবকাঠামো উন্নয়নে দিকনির্দেশনা পাবে।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। আপনিই প্রথম মন্তব্য করুন!
আপনার মতামত দিন