বরিশাল চিফ মেট্রোপলিটন আদালত ও অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন আদালতের কার্যক্রম বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন বরিশাল জেলা আইনজীবী সমিতি-এর নেতারা। একই সঙ্গে বরিশাল অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক সারাফাত উল্লাহ-এর অপসারণ দাবি করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে বরিশাল অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে এ কর্মসূচির ঘোষণা দেন আইনজীবীরা।
বিক্ষোভে বিএনপিপন্থি আইনজীবীরা অভিযোগ করেন, বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও বরিশাল-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য তালুকদার মো. ইউনুছ-কে একটি মামলায় জামিন দেওয়ার মাধ্যমে বিচারক পক্ষপাতমূলক ভূমিকা পালন করেছেন। বিচারককে অপসারণ না করা পর্যন্ত আদালতের কার্যক্রম বর্জনের ঘোষণা দেন আইনজীবী সমিতির নেতারা।
সূত্র জানায়, সোমবার বরিশাল জেলা ও মহানগর বিএনপির কার্যালয়ে ভাঙচুর এবং বিএনপি নেতা-কর্মীদের মারধরের মামলায় অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত থেকে তালুকদার মো. ইউনুছ জামিন পান। এ ঘটনার পরপরই বিএনপিপন্থি আইনজীবীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
বিক্ষোভে বক্তারা বলেন, গত ১৭ বছরে হত্যা, গুম ও রাজনৈতিক সহিংসতার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলাগুলোতে কোনো অনুশোচনা ছাড়াই জামিন দেওয়া হচ্ছে, যা বিচার ব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থা নষ্ট করছে। তাঁরা দাবি করেন, তালুকদার মো. ইউনুছের বিরুদ্ধে একাধিক রাজনৈতিক মামলা চলমান থাকলেও তাকে অন্য মামলায় আটক দেখানো হয়নি।
সমাবেশে বরিশাল জেলা জজ আদালতের সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর হাফিজ আহমেদ বাবলু বলেন, সংশ্লিষ্ট বিচারক রাজনৈতিক এজেন্ডা নিয়ে কাজ করছেন। যেখানে বিস্ফোরক মামলায় আসামিদের জেলা জজ আদালত থেকে জামিন নিতে হচ্ছে, সেখানে নিষিদ্ধ ঘোষিত দলের নেতারা নিম্ন আদালত থেকেই জামিন পাচ্ছেন—এটি বিচারিক বৈষম্যের উদাহরণ।
আইনজীবীরা অভিযোগ করেন, বিচারককে অপসারণ না করা পর্যন্ত তারা উল্লিখিত আদালতের কার্যক্রম বর্জন অব্যাহত রাখবেন এবং অন্য আইনজীবীদেরও বর্জনে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান।
বরিশাল জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট সাদিকুর রহমান লিংকন-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভ সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট নাজিম উদ্দিন আহম্মেদ পান্না, জেলা পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট আবুল কালাম আজাদ, আইনজীবী ফোরামের সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট মহসীন মন্টু, আইনজীবী সমিতির সম্পাদক মীর্জা রিয়াজ হোসেন এবং আইনজীবী ফোরামের সদস্যসচিব আবুল কালাম আজাদ ইমনসহ অনেকে।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। আপনিই প্রথম মন্তব্য করুন!
আপনার মতামত দিন