যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার জানিয়েছেন, প্রবৃদ্ধি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তিনি বেইজিংয়ের সঙ্গে একটি ‘পরিপক্ব ও গভীর সম্পর্ক’ গড়ে তুলতে আগ্রহী।
নিরাপত্তা ও বাণিজ্য নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইউরোপীয় মিত্রদের সম্পর্কের টানাপোড়েন চলছে। ঠিক এমন সময়ে চীনের সঙ্গে সম্পর্ক নতুন করে গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়ে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার আজ বৃহস্পতিবার বেইজিংয়ে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠক করেছেন।
যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার জানিয়েছেন, প্রবৃদ্ধি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তিনি বেইজিংয়ের সঙ্গে একটি 'পরিপক্ব ও গভীর সম্পর্ক' গড়ে তুলতে আগ্রহী।
আজ বৃহস্পতিবার বেইজিংয়ের গ্রেট হল অব দ্য পিপল-এ চীনের প্রেসিডেন্ট সঙ্গে এই বৈঠকে বসেন স্টারমার। চার দিনের এই সফরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিনে সি চিন পিংয়ের সঙ্গে ৮০ মিনিট বৈঠক করেন তিনি, এরপর দুই নেতা একসঙ্গে মধ্যাহ্নভোজে অংশ নেন। পরে চীনের প্রিমিয়ার লি ছিয়াংয়ের সঙ্গেও তাঁর বৈঠক করার কথা রয়েছে।
২০১৮ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে চীন সফর করেছিলেন। দীর্ঘ ছয় বছর পর এই প্রথম কোনো ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী চীন সফর করছেন। যুক্তরাজ্যের ঝিমিয়ে পড়া অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতেই স্টারমারের এই সফর। যুক্তরাজ্যে লেবার পার্টি ক্ষমতায় আসার পর থেকেই ধুঁকতে থাকা অর্থনীতিকে চাঙ্গা করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে আসছে। সেই লক্ষ্য পূরণে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ চীনের সঙ্গে সম্পর্কের উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দিচ্ছেন স্টারমার। যদিও দুই দেশের মধ্যে গুপ্তচরবৃত্তি এবং মানবাধিকার ইস্যু নিয়ে আগে থেকেই উদ্বেগ রয়েছে।
বৈঠকের শুরুতে স্টারমার বলেন, 'বিশ্বমঞ্চে চীন একটি গুরুত্বপূর্ণ শক্তি। তাই আমাদের মধ্যে এমন একটি গভীর সম্পর্ক গড়ে তোলা জরুরি যেখানে আমরা পারস্পরিক সহযোগিতার সুযোগগুলো কাজে লাগাতে পারি। তবে যেসব বিষয়ে আমাদের মতভেদ আছে, সেগুলো নিয়েও যেন অর্থপূর্ণ আলোচনা চলতে পারে।'
জবাবে শি জিনপিং বলেন, দুই দেশের সম্পর্ক অনেক 'চড়াই-উতরাইয়ের' মধ্য দিয়ে গেছে, যা কোনো পক্ষের জন্যই ভালো ছিল না। চীন এখন দীর্ঘমেয়াদী কৌশলগত অংশীদারত্ব গড়ে তুলতে প্রস্তুত। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অনিশ্চিত পররাষ্ট্রনীতির আশঙ্কায় অনেক পশ্চিমা দেশই এখন চীনের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের চেষ্টা চালাচ্ছে। ট্রাম্পের বাণিজ্য শুল্কের হুমকি এবং গ্রিনল্যান্ড দখলের মতো বিতর্কিত মন্তব্য যুক্তরাজ্যসহ দীর্ঘদিনের মিত্রদের মধ্যে অস্বস্তি তৈরি করেছে।
স্টারমারের এই সফরকে দেখা হচ্ছে সেই প্রেক্ষাপটেই। তার সফরসঙ্গী হিসেবে রয়েছে ৫০ জনের বিশাল এক ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদল। এর মধ্যে ব্যাংক, ওষুধশিল্প এবং গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ কর্মকর্তারা রয়েছেন।
তবে এই সফরের একটি উল্লেখযোগ্য দিক হলো অবৈধ অভিবাসী পাচারকারী চক্র দমনে দুই দেশের যৌথ উদ্যোগ। মূলত ছোট নৌকায় করে ইউরোপ পাড়ি দেওয়া অভিবাসীদের ঠেকাতে চীনের তৈরি ইঞ্জিনের ব্যবহার কমানোর ওপর জোর দেওয়া হবে। দুই দেশের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো এখন পাচারকারীদের রুট শনাক্ত করতে তথ্য আদান-প্রদান করবে।
মানবাধিকার ইস্যুতে স্টারমার সাংবাদিকদের জানান, হংকংয়ের কারাবন্দী ব্রিটিশ নাগরিক ও ধনকুবের জিমি লাইয়ের বিষয়টি তিনি চীনা প্রেসিডেন্টের কাছে উত্থাপন করবেন। যদিও নিরাপত্তা বা মানবাধিকার ইস্যুর চেয়ে বাণিজ্যকেই এখন বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন লেবার পার্টির নেতা স্টারমার। এর মাধ্যমে তিনি দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা কনজারভেটিভ পার্টির প্রধানমন্ত্রীদের নীতি থেকে সরে আসছেন।
সফরের বিষয়ে এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে স্টারমার বলেন, 'বছরের পর বছর ধরে চীনের প্রতি আমাদের দৃষ্টিভঙ্গিতে ধারাবাহিকতার অভাব ছিল। কখনো সম্পর্ক খুব উষ্ণ, আবার কখনো শীতল-এভাবেই চলেছে। কিন্তু পছন্দ হোক বা না হোক, যুক্তরাজ্যের জন্য চীন গুরুত্বপূর্ণ।'
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। আপনিই প্রথম মন্তব্য করুন!
আপনার মতামত দিন