বাজারে খোলা সয়াবিন তেল সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে লিটারে অন্তত ৩০ টাকা বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে ভোক্তাদের অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠন কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)। একই সঙ্গে বোতলজাত সয়াবিন তেলও নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি রাখা হচ্ছে বলেও দাবি তাদের।
বুধবার সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে ‘ভোজ্যতেলের বাজারে কারসাজি ও দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে’ আয়োজিত মানববন্ধন থেকে এসব অভিযোগ তুলে ধরে সংগঠনটি। ক্যাবের দাবি, কার্যকর তদারকির অভাবে একশ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী সরবরাহ সংকট তৈরি করে সয়াবিন তেলের দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন।
ক্যাবের নেতারা বলেন, দেশে প্রায় দুই মাস ধরে বোতলজাত সয়াবিন তেলের সরবরাহ সংকট চলছে। অনেক জায়গায় বোতলের গায়ে উল্লেখ থাকা সর্বোচ্চ খুচরা মূল্যের (এমআরপি) চেয়েও বেশি দামে তেল বিক্রি হচ্ছে। বোতলজাত সয়াবিনের সংকটের মধ্যে খোলা সয়াবিন তেলের দামও আরও বেড়েছে।
সংগঠনটির তথ্যমতে, সর্বশেষ গত ডিসেম্বরে ভোজ্যতেলের দাম সমন্বয় করা হয়। সে সময় বোতলজাত সয়াবিন তেলের সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য লিটারে ৬ টাকা বাড়িয়ে ১৯৫ টাকা এবং খোলা সয়াবিন তেলের দাম ৬ টাকা বাড়িয়ে ১৭৬ টাকা নির্ধারণ করা হয়। একই সময়ে প্রতি লিটার পাম তেলের দাম ১৬ টাকা বাড়িয়ে ১৬৬ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল।
তবে ক্যাবের দাবি, ওই সময় দাম বাড়ানোর ক্ষেত্রে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মতি ছিল না। তাদের ভাষ্য, মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন ছাড়াই কোম্পানিগুলো দাম বাড়ায়। আগের হিসাবে বোতলজাত সয়াবিন তেল ১৮৯ টাকা, খোলা সয়াবিন ১৭০ টাকা এবং খোলা পাম তেল ১৫০ টাকায় বিক্রি হওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে বাজারে এর চেয়ে বেশি দামে তেল বিক্রি হচ্ছে। বর্তমানে বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম উঠেছে ২০০ টাকা পর্যন্ত, খোলা সয়াবিন বিক্রি হচ্ছে ১৯৫ থেকে ২০০ টাকা দরে এবং খোলা পাম তেল বিক্রি হচ্ছে ১৬৮ টাকায়।
মানববন্ধনে ক্যাবের সাংগঠনিক সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ বলেন, কোথাও কোথাও বোতলজাত তেলের কৃত্রিম সংকট তৈরি করা হচ্ছে। এতে সাধারণ ভোক্তারা প্রতারিত হচ্ছেন এবং অতিরিক্ত আর্থিক চাপের মুখে পড়ছেন। তার মতে, এসব অনিয়ম বাজার তদারকির ঘাটতিরই প্রমাণ।
ক্যাবের সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবীর ভূঁইয়া বলেন, অসাধু ব্যবসায়ীদের কারণে বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। এই সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে ভোক্তা অধিকার সংস্থার কার্যক্রম আরও সক্রিয় করার দাবি জানান তিনি।
মানববন্ধন থেকে ৬ দফা দাবি জানায় ক্যাব। দাবিগুলো হলো—সরকার নির্ধারিত দামে ভোজ্যতেল বিক্রি নিশ্চিত করা, সয়াবিন তেলের বাজারে সক্রিয় সিন্ডিকেট চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া, নিয়মিত ও কার্যকর বাজার তদারকি চালু রাখা, কৃত্রিম সংকট ও মজুতদারির বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া, নন-ফুড গ্রেড ড্রামে তেল সংরক্ষণ ও বিক্রি বন্ধ করা এবং ভোজ্যতেলের জন্য ফুড-গ্রেড পাত্র ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। আপনিই প্রথম মন্তব্য করুন!
আপনার মতামত দিন