রাজধানীর সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে এবং ট্রাফিক আইন বাস্তবায়নে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি আরও জোরদার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ- ডিএমপি।
এআইভিত্তিক ট্রাফিক মনিটরিং ব্যবস্থা ফাঁকি দিতে কোনো ধরনের কৌশল বা অসদুপায় অবলম্বন না করে সব যানবাহন চালক ও মালিককে ট্রাফিক আইন মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছেন ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার ট্রাফিক মো. আনিছুর রহমান।
মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এ আহ্বান জানান।
প্রেস ব্রিফিংয়ে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার বলেন, রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও মোড়ে এআই প্রযুক্তিনির্ভর ক্যামেরা ও মনিটরিং ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। এসব প্রযুক্তির মাধ্যমে ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনকারী যানবাহন দ্রুত শনাক্ত করা সম্ভব হচ্ছে।
তবে কিছু চালক ও মালিক আইন প্রয়োগ প্রক্রিয়া এড়াতে নম্বর প্লেট বিকৃত করা, আংশিক ঢেকে রাখা কিংবা অস্পষ্ট করে রাখার মতো বেআইনি কর্মকাণ্ডে জড়াচ্ছেন বলে জানান তিনি।
মো. আনিছুর রহমান বলেন, খুব শিগগিরই রাজধানীজুড়ে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হবে। যেসব যানবাহনের নম্বর প্লেট অস্পষ্ট, ভাঙা, বিকৃত অথবা ইচ্ছাকৃতভাবে আংশিক ঢেকে রাখা হয়েছে, সেসব যানবাহনের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি বলেন, এআই প্রযুক্তি নম্বর প্লেট শনাক্তকরণের মাধ্যমে ট্রাফিক আইন বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। কিন্তু নম্বর প্লেট বিকৃত বা আড়াল করা হলে যানবাহন শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ে। এটি শুধু আইন লঙ্ঘন নয়, জননিরাপত্তার জন্যও হুমকি।
অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার জানান, আগে শুধু নম্বর প্লেটসংক্রান্ত অপরাধে মামলা করা হলেও এখন থেকে চালক ও মালিক উভয়ের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে ডিমেরিট পয়েন্ট পদ্ধতির আওতায় সংশ্লিষ্ট চালকের ড্রাইভিং লাইসেন্স থেকে পয়েন্ট কর্তন করা হবে এবং আইন অনুযায়ী অর্থদণ্ড আরোপ করা হবে।
প্রেস ব্রিফিংয়ে সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া একটি ঘটনার কথাও তুলে ধরেন তিনি। তিনি বলেন, একটি ভিডিওতে দেখা যায়, এক মোটরসাইকেল চালক ইচ্ছাকৃতভাবে নম্বর প্লেটের শেষ তিনটি সংখ্যা ঢেকে রাজধানীর সড়কে চলাচল করছেন। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে তদন্ত শুরু করে ডিএমপি।
তদন্তে জানা যায়, গত ১৯ মে দুপুর আনুমানিক আড়াইটার দিকে তেজগাঁও থানার কারওয়ান বাজার ক্রসিং এলাকায় মো. লাবলু হক নামের এক ব্যক্তি তার ব্যক্তিমালিকানাধীন মোটরসাইকেলের নম্বর প্লেটের শেষ তিনটি সংখ্যা ‘৬৫৯’ সাদা স্কচটেপ দিয়ে ঢেকে সড়কে চলাচল করছিলেন।
ডিএমপি জানায়, এ ঘটনায় সিটি ইন্টেলিজেন্স অ্যান্ড অ্যানালাইসিস বিভাগের একটি দল অভিযান চালিয়ে মঙ্গলবার তাকে গ্রেপ্তার করে। পরে আদালতে সোপর্দ করা হলে সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮-এর ৭২ ধারায় অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় আদালত তাকে ৩০ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং দুই হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেন।
অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার বলেন, এআই প্রযুক্তিকে ফাঁকি দেওয়ার এমন কৌশল কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। মামলা দেওয়া, জরিমানা করা বা কাউকে শাস্তি দেওয়াই পুলিশের মূল উদ্দেশ্য নয়; প্রধান লক্ষ্য হলো মানুষকে সচেতন করা এবং ট্রাফিক আইন মেনে চলতে উদ্বুদ্ধ করা।
তবে কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে আইন অমান্য করলে তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সতর্ক করেন তিনি।
সড়ক ব্যবহারকারীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে মো. আনিছুর রহমান বলেন, নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও আইনসম্মত সড়কব্যবস্থা গড়ে তুলতে সবাইকে দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে। নম্বর প্লেট সঠিকভাবে প্রদর্শনসহ সব ট্রাফিক বিধি মেনে চললে দুর্ঘটনা ও আইন লঙ্ঘনের ঘটনা অনেকাংশে কমে আসবে।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। আপনিই প্রথম মন্তব্য করুন!
আপনার মতামত দিন