ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রিক সাম্প্রতিক ঘটনাকে ঘিরে উত্তেজনা বাড়ছে। পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিকদের ওপর হামলার অভিযোগের পর এবার ডাকসু নেতাদের মামলা গ্রহণ না করার অভিযোগ উঠেছে শাহবাগ থানার বিরুদ্ধে।
রোববার (২৬ এপ্রিল) সন্ধ্যায় শাহবাগ থানায় মামলা করতে গেলে তা গ্রহণ করা হয়নি বলে অভিযোগ করেন ডাকসুর সাহিত্য ও সংস্কৃতি সম্পাদক মোসাদ্দেক আলি ইবনে মোহাম্মদ।
তিনি বলেন, মামলা জমা দিতে গেলে পুলিশ তাদের জানায়, এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত ‘ওপর থেকে’ আসবে। বিষয়টিকে তিনি ‘হাস্যকর’ বলে মন্তব্য করেন।
ঘটনার সূত্রপাত গত বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) রাতে। সেদিন শাহবাগ থানায় মামলা দায়েরকে কেন্দ্র করে ঢাবি ছাত্রদল ও ডাকসু নেতাদের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়। একপর্যায়ে উভয় পক্ষের নেতাকর্মীরা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। এতে ডাকসুর সমাজসেবা সম্পাদক এবি জুবায়ের ও সাহিত্য ও সংস্কৃতি সম্পাদক মোসাদ্দেক আলিকে মারধরের অভিযোগ ওঠে ছাত্রদল নেতাদের বিরুদ্ধে।
পরে হামলার ভিডিও ফুটেজসহ অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মামলা করতে থানায় যান ডাকসু নেতারা। তবে তাদের অভিযোগ, সুস্পষ্ট প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও পুলিশ মামলা গ্রহণে গড়িমসি করছে।
এ বিষয়ে এবি জুবায়ের বলেন, অনেক গণমাধ্যম ঘটনাটিকে ছাত্রদল-শিবিরের অভ্যন্তরীণ সংঘর্ষ হিসেবে উপস্থাপনের চেষ্টা করছে, যা সঠিক নয়। তার দাবি, তারা ডাকসুর প্রতিনিধি হিসেবে একজন সাধারণ শিক্ষার্থীর সহায়তায় থানায় গিয়েছিলেন।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, থানার ভেতরে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটলেও পুলিশ তা অস্বীকার করছে। এ বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে মামলা করা হবে কি না জানতে চাইলে সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা বিষয়টি এড়িয়ে যান বলেও দাবি করেন তিনি।
মামলা করতে যাওয়া প্রতিনিধি দলে আরও ছিলেন ডাকসুর ক্যারিয়ার উন্নয়ন সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম, ক্রীড়া সম্পাদক আরমানুল ইসলাম, ক্যাফেটেরিয়া সম্পাদক উম্মে সালমা এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক ইকবাল হায়দার।
এর আগে একই ধরনের অভিযোগ তুলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি। সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক লিটন ইসলাম জানান, দীর্ঘ সময় থানায় অবস্থান করেও তারা মামলা দায়ের করতে পারেননি। তার ভাষায়, পুলিশ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনার অপেক্ষায় রয়েছে বলে মনে হচ্ছে।
তিনি বলেন, হামলার শিকার হওয়ার পরও অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে না পারা উদ্বেগজনক।
প্রসঙ্গত, গত বৃহস্পতিবার পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে ছাত্রদল নেতাদের হামলায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির সভাপতি ও কালের কণ্ঠের ঢাবি প্রতিনিধি মানজুর হোসাইন মাহি, সাধারণ সম্পাদক লিটন ইসলামসহ অন্তত ১০ জন সাংবাদিক আহত হন বলে অভিযোগ রয়েছে।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। আপনিই প্রথম মন্তব্য করুন!
আপনার মতামত দিন