রাজধানীর উত্তর বাড্ডায় নিজ বাসা থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগের মাস্টার্সের এক শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে ওই বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক সুদীপ চক্রবর্তীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
নিহত শিক্ষার্থীর নাম মুনিরা মাহজাবিন মিমো। তিনি ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন এবং পরিবারের সঙ্গে বাড্ডার বাসায় বসবাস করতেন।
পুলিশ জানায়, রোববার সকালে নিজ কক্ষ থেকে মিমোকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে তার বাবা সহযোগী অধ্যাপক সুদীপ চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে মামলা করেন।
বাড্ডা জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার মো. আসাদুজ্জামান বলেন, শিক্ষক সুদীপ চক্রবর্তী ও নিহত শিক্ষার্থীর এক ঘনিষ্ঠ সহপাঠীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আনা হয়েছিল। পরে শিক্ষার্থীর বাবার মামলার ভিত্তিতে ওই শিক্ষককে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। সহপাঠীকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
বাড্ডা জোনের অতিরিক্ত উপকমিশনার জুয়েল ইমরান জানান, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
পরিবারের বরাতে তিনি বলেন, শনিবার রাতে মিমো তার বাবার সঙ্গে কথা বলেন। এরপর নিজের কক্ষে চলে যান। রোববার ভোরে পরিবারের সদস্যরা ডাকাডাকি করে কোনো সাড়া না পেয়ে দরজা ভেঙে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান।
পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, পরিবারের বক্তব্য ও পারিপার্শ্বিক আলামত দেখে প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি আত্মহত্যা বলে মনে হচ্ছে। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।
পুলিশ আরও জানিয়েছে, শিক্ষার্থীর কক্ষ থেকে একটি চিরকুট উদ্ধার করা হয়েছে। সেখানে এক শিক্ষককে টাকা দেওয়ার প্রসঙ্গ এবং এক সহপাঠীর নাম উল্লেখ ছিল বলে জানা গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। আপনিই প্রথম মন্তব্য করুন!
আপনার মতামত দিন