বাংলাদেশের রাজনীতিতে দীর্ঘ প্রায় দেড় যুগ পর নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর রাষ্ট্রের দায়িত্ব গ্রহণ অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনুসসের নেতৃত্বাধীন অন্তবর্তীকালীন সরকার। প্রায় দেড় বছরের শাসনের পর গত ১২ ফেব্রুয়ারি অন্তবর্তীকালীন সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত হয় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন । নির্বাচনের ফলাফলের ভিত্তিতে মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ ভবন প্রাঙ্গণে শপথ গ্রহণ করে বিএনপি নেতৃত্বাধীন নির্বাচিত নতুন সরকার ।

স্বাভাবিকভাবে বঙ্গভবনে শপথ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হলেও এবার এক ভিন্নতা দেখা যায়। জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় বিকাল ৪টায় মন্ত্রিপরিষদের শপথ গ্রহণ শুরু হয়। এর আগে একই দিন সকাল ১০টায় সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ বাক্য পাঠ করান। সে সময় কোনো অতিথি উপস্থিত ছিলেন না।
বিকেলে প্রথমে প্রধানমন্ত্রী শপথ গ্রহণ করেন, এরপর ২৫ জন মন্ত্রী এবং পরে ২৪ জন প্রতিমন্ত্রী শপথ নেন। রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন শপথ বাক্য পাঠ করান এবং পুরো অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব।
শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধান, প্রধানমন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও কূটনীতিকরা অনুষ্ঠানটিতে অংশ নিতে ঢাকায় আসেন। নতুন সরকারকে সমর্থন জানাতেই তাদের এই সফর, বলে জানা গেছে। অনুষ্ঠানে প্রায় সাড়ে তিন হাজার আমন্ত্রিত অতিথি উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে, সংসদে বিরোধীদলের ভূমিকায় থাকা বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপি ছায়া মন্ত্রিসভা গঠনের ঘোষণা দিয়েছে। তারা সরকারের বিভিন্ন নীতি নিয়ে গঠনমূলক আলোচনা ও সমালোচনা করবে বলে জানিয়েছে। পশ্চিমা গণতান্ত্রিক দেশগুলোতে দীর্ঘদিন ধরেই এ ধরনের ছায়া মন্ত্রিসভার প্রচলন রয়েছে।
শপথ গ্রহণের মাধ্যমে নবগঠিত সরকারের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হলো। এখন রাজনৈতিক অঙ্গনে নজর থাকবে নতুন সরকারের কার্যক্রম ও নীতিগত পদক্ষেপের দিকে।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। আপনিই প্রথম মন্তব্য করুন!
আপনার মতামত দিন