ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ১১–দলীয় ঐক্যের অংশ হয়ে নির্বাচন করলেও আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে এককভাবে প্রস্তুতি নেওয়ার কথা ভাবছে জামায়াতে ইসলামী। তবে জোটের কয়েকটি শরিক দল স্থানীয় নির্বাচনেও সমন্বিত কৌশল চায়। জামায়াতের সঙ্গে সমঝোতা না হলে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ও খেলাফত মজলিস বিকল্প নির্বাচনী বোঝাপড়ার চিন্তা করছে। এ আলোচনায় জাতীয় নাগরিক পার্টিকে (এনসিপি) যুক্ত করার চেষ্টাও চলছে।
আগামী অক্টোবর থেকে স্থানীয় সরকারের কয়েকটি স্তরে নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। সরকার ও ইসি সূত্র জানায়, আগস্টের শেষ অথবা সেপ্টেম্বরে তফসিল ঘোষণা হতে পারে। শুরুতে ইউনিয়ন পরিষদ ও পৌরসভা এবং পরে ধাপে ধাপে সিটি করপোরেশনসহ অন্য স্তরের নির্বাচন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতায় এটিই হবে দলগুলোর প্রথম বড় নির্বাচনী পরীক্ষা। তাই প্রায় সব দলই স্থানীয় নির্বাচনকে সাংগঠনিক শক্তি ও স্থানীয় নেতৃত্ব যাচাইয়ের সুযোগ হিসেবে দেখছে। প্রার্থী নির্বাচন ও সম্ভাব্য সমঝোতা নিয়ে আগেভাগেই আলোচনা শুরু হয়েছে।
১১–দলীয় ঐক্যের কয়েকটি দলের মতে, স্থানীয় নির্বাচনেও সমন্বয় না থাকলে মাঠপর্যায়ে বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে। যেসব এলাকায় জোটভুক্ত একাধিক দলের শক্তিশালী অবস্থান রয়েছে, সেখানে একাধিক প্রার্থী হলে ভোট ভাগ হওয়ার আশঙ্কা আছে।
তবে জামায়াতের নেতারা মনে করেন, ইউনিয়ন পরিষদ থেকে সিটি করপোরেশন পর্যন্ত বিপুলসংখ্যক পদে কেন্দ্রীয়ভাবে সমঝোতা করা বাস্তবসম্মত নয়। স্থানীয় নির্বাচন দলীয় সাংগঠনিক সক্ষমতা ও নেতৃত্ব যাচাইয়ের ক্ষেত্র হওয়ায় প্রতিটি দলের এককভাবে প্রস্তুতি নেওয়ার সুযোগ থাকা উচিত।
জামায়াত সূত্র জানায়, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ৩০০ আসনে সমঝোতা করতেই কয়েক মাস সময় লেগেছিল। স্থানীয় সরকারের বিপুলসংখ্যক পদে একই ধরনের সমঝোতা বাস্তবসম্মত নয়। অতীতেও জোটবদ্ধভাবে স্থানীয় নির্বাচন হয়নি। তবে স্থানীয় পর্যায়ে কোথাও সমঝোতা হলে কেন্দ্র থেকে বাধা দেওয়া হবে না।
এদিকে স্থানীয় নির্বাচন সামনে রেখে এনসিপিও সাংগঠনিক প্রস্তুতি নিচ্ছে। দলটির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র পদে সম্ভাব্য প্রার্থী। দলীয় সূত্রের দাবি, তিনি এ পদে জামায়াতের সমর্থন চান। তবে একই পদে ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েমকে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে প্রস্তুত করছে জামায়াত। ফলে ঢাকা দক্ষিণে দুই দলের সমঝোতার সম্ভাবনা কম বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
এনসিপির সূত্রগুলো বলছে, দলটি আপাতত একক প্রস্তুতিতে মনোযোগ দিচ্ছে। তফসিল ঘোষণার বিষয়টি এখনো পরিষ্কার না হওয়ায় নির্বাচনী জোট বা সমঝোতা নিয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে বিভিন্ন দলের সঙ্গে অনানুষ্ঠানিক আলোচনা চলছে।
স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে কোনো দলই এখন পর্যন্ত চূড়ান্ত অবস্থান নেয়নি। তবে কেন্দ্রীয়ভাবে সমন্বিত নির্বাচন হবে, নাকি স্থানীয় বাস্তবতা অনুযায়ী দলগুলো ভিন্ন কৌশল নেবে—এ প্রশ্নে ১১–দলীয় ঐক্যের শরিকদের মতপার্থক্য স্পষ্ট হয়েছে। তফসিল ঘোষণার পর দলগুলোর অবস্থান আরও পরিষ্কার হতে পারে।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। আপনিই প্রথম মন্তব্য করুন!
আপনার মতামত দিন