২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনসহ গুরুত্বপূর্ণ তিনটি ইস্যু নিয়ে শনিবার রাতে বৈঠকে বসছে বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটি। বৈঠকের বিষয়টি ইতোমধ্যে কমিটির সদস্যদের জানানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন দলটির মিডিয়া সেলের সদস্যরা।
বিএনপির একাধিক জ্যেষ্ঠ নেতা আভাস দিয়েছেন, বৈঠকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন, দলের মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সাম্প্রতিক বক্তব্য এবং এনসিপির পদযাত্রায় সংঘাতের ঘটনা নিয়ে আলোচনা হতে পারে।
‘শারীরিক ও মানসিক সক্ষমতা’ না থাকার কারণ দেখিয়ে গত ২৪ জুলাই শুক্রবার রাষ্ট্রপতির পদ থেকে সরে দাঁড়ান আওয়ামী লীগের সময়ে মনোনীত মো. সাহাবুদ্দিন। বর্তমানে তার অনুপস্থিতিতে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করছেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। পরবর্তী রাষ্ট্রপতি কে হচ্ছেন—এ নিয়ে আলোচনার মধ্যেই স্থায়ী কমিটির বৈঠক ডেকেছে বিএনপি।
স্থায়ী কমিটির এক সদস্য জানিয়েছেন, বৈঠকে রাষ্ট্রপতি প্রার্থীর বিষয়ে দল সিদ্ধান্তে আসতে পারে। একই সঙ্গে মির্জা ফখরুলের আলোচিত বক্তব্য নিয়ে পক্ষে-বিপক্ষে মতামত এবং এনসিপির পদযাত্রায় সংঘাতের বিষয়টিও আলোচনায় উঠতে পারে।
সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে জাতীয় সংসদের স্পিকারের সঙ্গে সমন্বয় করে নির্বাচন কমিশন। বর্তমানে স্পিকারের দায়িত্ব পালন করছেন ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। মঙ্গলবার তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন।
বিভিন্ন সূত্রে রাষ্ট্রপতি পদে ছয়জনের নাম আলোচনায় আসার কথা জানা গেছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, নজরুল ইসলাম খান ও আবদুল মঈন খান এবং দলের ভাইস চেয়ারম্যান আলতাফ হোসেন চৌধুরী। অবসরে যাওয়া প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদের নামও আলোচনায় রয়েছে। এ ছাড়া একজন সচিব ও বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক অধ্যাপকের নাম আলোচনায় এসেছে।
এর আগে বৃহস্পতিবার এক আলোচনাসভায় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দাবি করেন, গত চার-পাঁচ মাসে দেশের সার্বিক অবস্থার কোনো পরিবর্তন হয়নি। আগের মতোই ঘুষ লেনদেন চলছে এবং সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন পরিকল্পনা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রশংসা করে তিনি বলেন, তারেক রহমান ছাড়া অন্য কারও মধ্যে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন দেখা যায়নি এবং তিনি দেশের অগ্রগতির জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
মির্জা ফখরুলের এ বক্তব্যের পরদিন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান দাবি করেন, সরকারের পাঁচ মাসে দুর্নীতি কমার পরিবর্তে বেড়েছে—বিএনপির মহাসচিব নিজেই তা স্বীকার করেছেন। এমন পরিস্থিতিতে সরকারের ক্ষমতায় থাকার নৈতিক অধিকার রয়েছে কি না, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। আপনিই প্রথম মন্তব্য করুন!
আপনার মতামত দিন