ক্ষমতাসীন বিএনপির কর্মকাণ্ডে বিগত সরকারের দমন-পীড়নের প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।
রোববার (২ আগস্ট) জাতীয় প্রেসক্লাবের আবদুস সালাম হলে বাংলাদেশ লেবার পার্টি আয়োজিত ‘জান দেব, জুলাই দেব না’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।
বিএনপিকে উদ্দেশ করে শফিকুর রহমান বলেন, ‘সাড়ে ১৭ বছর জুলুমের শিকার হয়েছি আমরাও, আপনারাও। একটি রক্তভেজা আন্দোলনের মাধ্যমে আল্লাহ তাআলা আমাদের মুক্তি দিয়েছেন। কিন্তু সেই স্মৃতি দ্রুত ভুলে গিয়ে তখনকার ফ্যাসিস্টরা যা করেছে, তার হুবহু ফটোকপি আপনাদের মধ্যে দেখতে পাচ্ছি।’
বিগত সরকারের সময়কার দমন-পীড়নের পরিস্থিতি স্মরণ করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, দেশের মানুষের ওপর জুলুমের পরিবেশ কীভাবে তৈরি হয়েছিল, বিএনপিকে তা ভেবে দেখতে হবে। বিরোধী রাজনৈতিক মতের অনুসারী, আলেম-ওলামা, সাংবাদিক, সুশীল সমাজ, ব্যবসায়ী, শ্রমিক ও সাধারণ মানুষ কী পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে গেছেন, সেটিও স্মরণ রাখা প্রয়োজন।
জামায়াতের আমির বলেন, বিএনপির নেতারা নিজেরাই অতীতে পাট ও ধানখেতে লুকিয়ে থাকার কথা বলেছেন। অথচ বিরোধী মত দমনে বিগত সরকার যেসব ষড়যন্ত্র, অপপ্রচার ও বলপ্রয়োগের আশ্রয় নিয়েছিল, বিএনপিও সেগুলো অনুসরণ করছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
নির্বাচন ও গণভোটের প্রসঙ্গ তুলে শফিকুর রহমান বলেন, ‘নির্বাচন একটি নয়, দুটি হয়েছে। শপথও দুটি নেওয়ার কথা ছিল। আমরা নিয়েছি, আপনারা নেননি কেন? আপনারাও তো আমাদের মতো গণভোটে “হ্যাঁ” বলার কথা বলেছিলেন। ৭০ শতাংশ মানুষ “হ্যাঁ” বলার পর তাদের অভিপ্রায়কে অপমান করছেন কেন?’
তিনি বলেন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম কারণ ছিল বৈষম্য এবং জনগণের ভোটের প্রতি অসম্মান। তাই জনগণের রায় ও রাজনৈতিক মতামতকে যথাযথ সম্মান দেখানো প্রয়োজন।
নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের অতিরিক্ত সচিব পদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পাওয়া মো. সামসুল আলমের প্রসঙ্গও তোলেন বিরোধীদলীয় নেতা। এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর বক্তব্য উদ্ধৃত করে তিনি দাবি করেন, সামসুল আলম বিএনপির একজন সক্রিয় কর্মী ছিলেন।
শফিকুর রহমান বলেন, গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি নির্বাচনের আগে একজন দলীয় ব্যক্তিকে নিরপেক্ষ প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ দেওয়ায় নিয়োগের উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। তিনি কটাক্ষ করে বলেন, ‘সচিব হতে এখন আর বিসিএস যোগ্যতা লাগবে না, দলীয় পদ থাকলেই হবে।’
আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য দেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদ এবং লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। আপনিই প্রথম মন্তব্য করুন!
আপনার মতামত দিন