জাতীয় সংসদে নিকাব পরা নারী সংসদ সদস্যদের নিয়ে মন্তব্য করেছেন কুমিল্লা-৬ আসনের বিএনপিদলীয় সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী। তার বক্তব্যের প্রতিবাদ হলে ব্যক্তিস্বাধীনতা নিয়ে মন্তব্য না করতে তাকে সতর্ক করেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।
রোববার (১৪ জুন) জাতীয় সংসদের অধিবেশন চলাকালে এ ঘটনা ঘটে।
মনিরুল হক চৌধুরী বলেন, নারী সংসদ সদস্যরা মেধাবী ও শিক্ষিত হলেও নিকাব পরে সংসদে আসায় তাদের পরিচয় বুঝতে তার অসুবিধা হয়।
তিনি বলেন, ‘মাননীয় স্পিকার, আমাদের হাউজে আমাদের বোনেরা এমপি হয়ে এসেছেন। আপনিও অভিনন্দন জানিয়েছেন, আমিও অভিনন্দন জানাই। সবাই মেধাবী। দুজনের বক্তৃতা শুনেছি। আগামী দিনে কিছু করতে পারবেন, ভবিষ্যৎ আছে, লেখাপড়া জানা। কিন্তু বুঝলাম না তো, কারা আপনারা?’
মনিরুল হক আরও বলেন, ‘আপনারা এদিকে দেখতে পারেন, আমরা এদিকে দেখলে বুঝব না কী আছে—এটা ঠিক না তো।’
তার এ বক্তব্যে বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যরা প্রতিবাদ জানান। পরে ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল তাকে থামিয়ে ব্যক্তিগত স্বাধীনতা নিয়ে কথা না বলার জন্য কঠোরভাবে সতর্ক করেন। স্পিকার অত্যন্ত ক্ষুব্ধ হয়ে বলেন, আমরা সবাই জনগণের ভোটে নির্বাচিত সংসদ সদস্য। আমরা যদি নিজেদের ডিসেন্সি এবং ডিগনিটি ধরে রাখতে না পারি, তবে দেশের মানুষের কাছে আমাদের লজ্জিত হতে হবে। এই মহান সংসদ কোনো ব্যক্তিগত আক্রমণ বা কারও ব্যক্তিগত স্বাধীনতা নিয়ে কথা বলার চারণক্ষেত্র নয়।
এই তীব্র সমালোচনার মুখে মনিরুল হক চৌধুরী সংসদে দুঃখ প্রকাশ করতে বাধ্য হন এবং তার কোনো শব্দে কারও আত্মসম্মানে আঘাত লেগে থাকলে তা এক্সপাঞ্জ করার অনুরোধ জানান।
একপর্যায়ে স্পিকার তার বক্তব্যের আপত্তিকর অংশটুকু সংসদীয় কার্যবিবরণী থেকে এক্সপাঞ্জ (বাদ) ঘোষণা করেন ,পরে সংসদের পরিবেশ নিয়ন্ত্রণে আসে।
এর আগে একটি অনুষ্ঠানের স্মৃতিচারণ করে মনিরুল হক চৌধুরী জামায়াতের নায়েবে আমির ও বিরোধীদলীয় উপনেতা সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহেরের স্ত্রীকে ঘিরে একটি ঘটনার কথা উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, ওই অনুষ্ঠানে তাহেরের স্ত্রীর পরিচয় বুঝতে না পেরে তিনি প্রশ্ন করেছিলেন, ‘তাহের ভাই, ভাবি কই?’ জবাবে তাহের পাশে থাকা ব্যক্তিকে দেখালে তিনি বলেন, ‘আপনি যে বদলে আনেননি, সেটা কীভাবে বুঝব?’
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। আপনিই প্রথম মন্তব্য করুন!
আপনার মতামত দিন