নয় মাসের দীর্ঘ আলোচনার পর যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি করেছে বাংলাদেশ; যাতে আগের চেয়ে শুল্কহার কমেছে ১ শতাংশ।যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানিকৃত তুলা ও কৃত্রিম তন্তু থেকে তৈরি পোশাকে শুল্ক হবে শূন্য শতাংশ। সোমবার রাতে এ বিষযে চুক্তি সই হওয়ার খবর দিয়েছে প্রধান উপদেষ্টার দপ্তর।
এতে বলা হয়, নতুন চুক্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশি পণ্য রপ্তানিতে এখন পারস্পরিক শুল্ক দিতে হবে ১৯ শতাংশ। এতে করে মোট শুল্কহার আগের ৩৫ শতাংশ থেকে কমে হবে ৩৪ শতাংশ।
এ চুক্তি নিয়ে কিছুদিন থেকে বেশ আশাবাদী ছিল সরকার। যুক্তরাষ্ট্রের আরোপ করা অতিরিক্ত সম্পূরক শুল্কহার ২০ শতাংশ থেকে কমিয়ে আনতে দেশটির সঙ্গে বাণিজ্য সম্পর্ক উন্নয়নের পাশাপাশি বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে বেশ কিছু ছাড় দেয় সরকার।
যুক্তরাষ্ট্র থেকে বোয়িংয়ের উড়োজাহাজ কেনার সিদ্ধান্তের পাশাপাশি আরও পণ্য কিনতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়। ইতিমধ্যে গম আমদানি বাড়ানো হয়েছে। তুলা ও সয়াবিনসহ আরও পণ্য আমদানি বাড়ানোর প্রক্রিয়া চলছে।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানীকৃত তুলা ও কৃত্রিম তন্তু দিয়ে তৈরি পোশাক রফতানি করলে কোনো পাল্টা শুল্ক আরোপ করা হবে না।
চুক্তি স্বাক্ষরের আনুষ্ঠানিকতা শেষে গতকাল রাতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুবুর রহমান গণমাধ্যমকে বলেন, 'যুক্তরাষ্ট্রের তুলাজাত পণ্য দিয়ে তৈরি পোশাকে শূন্য শুল্কহারের পাশাপাশি আরো কিছু পণ্যে শুল্কমুক্ত সুবিধা থাকছে। সব ধরনের হেলথ প্রডাক্ট বিশেষ করে ওষুধ, সাপ্লিমেন্ট, প্লাইউড এবং খাদ্যপণ্য পাল্টা শুল্কমুক্ত সুবিধা চুক্তির আওতায় রয়েছে। এগুলোর মধ্যে দুটি ভাগ আছে। ২ হাজার ৫০০ আইটেম আছে পার্টনার কান্ট্রি ফ্যাসিলিটেশন হিসেবে। আমরা পার্টনার কান্ট্রি হিসেবে ওষুধসহ বেশকিছু পণ্যে শূন্য শুল্ক সুবিধা পেয়েছি।'
এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ২০২৫ সালের ২ এপ্রিল ১০০টি দেশের ওপর বিভিন্ন হারে পাল্টা শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেন। শুরুতে বাংলাদেশের জন্য হারটি ছিল ৩৭ শতাংশ। পরে শুল্ক আরোপ তিন মাসের জন্য পিছিয়ে দেয় যুক্তরাষ্ট্র। ঠিক তিন মাসের মাথায় ২০২৫ সালের ৭ জুলাই বাংলাদেশের ওপর আরোপিত শুল্ক ৩৭ থেকে ৩৫ শতাংশে নামানোর ঘোষণা দেন ট্রাম্প।

এসব উদ্যোগের মধ্যে সোমবার রাতে চুক্তির খবর দিল সরকার; যাতে শেষ পর্যন্ত ১ শতাংশ শুল্ক কমায় ট্রাম্প প্রশাসনের মন খুব বেশি গলানো যায়নি বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তবে অন্তর্বর্তী সরকারের আশা, এ চুক্তিতে শুল্কহার খুব বেশি না কমলেও এর বাইরে দেশটির বাজারে আরও কিছু বাড়তি সুবিধা পাবে বাংলাদেশি পণ্য।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। আপনিই প্রথম মন্তব্য করুন!
আপনার মতামত দিন