নবম জাতীয় পে-স্কেলের জন্য আসন্ন বাজেটে প্রয়োজনীয় বরাদ্দ নিশ্চিত না হলে ১২ জুন থেকে লাগাতার অবস্থান কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতি।
শনিবার নবম জাতীয় পে-স্কেল দ্রুত বাস্তবায়নের দাবিতে জাতীয় প্রেসক্লাব প্রাঙ্গণে আয়োজিত মৌন মিছিল ও কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি সমাবেশে এ ঘোষণা দেন সমিতির সভাপতি আবদুল মালেক।
তিনি বলেন, গত ১১ বছরে দুটি পে-স্কেল বাস্তবায়নের যৌক্তিকতা থাকলেও একটি পে-স্কেলও কার্যকর হয়নি। অথচ দ্রব্যমূল্য, বাসাভাড়া, চিকিৎসা, শিক্ষা ও নিত্যপ্রয়োজনীয় সব খরচ অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে।
আবদুল মালেক বলেন, আসন্ন জাতীয় বাজেটে নবম পে-স্কেলের জন্য প্রয়োজনীয় বরাদ্দ নিশ্চিত না করা হলে ১২ জুন থেকে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারসহ দেশের প্রতিটি জেলা ও বিভাগীয় প্রেসক্লাব চত্বরে লাগাতার অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হবে।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, দীর্ঘ ১১ বছর ধরে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নতুন পে-স্কেল থেকে বঞ্চিত। এই সময়ে জীবনযাত্রার ব্যয় কয়েকগুণ বেড়েছে, কিন্তু বেতন কাঠামোয় কার্যকর কোনো পরিবর্তন আসেনি। ফলে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের কর্মচারীরা চরম অর্থনৈতিক চাপে পড়েছেন এবং অনেকে ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়ছেন।
সমিতির সদস্য সচিব আশিকুল ইসলাম বলেন, বর্তমান বেতনে একটি পরিবার পরিচালনা করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে। বাসাভাড়া, গ্যাস, বিদ্যুৎ, পানি, চিকিৎসা ও শিক্ষা ব্যয় বহন করতে গিয়ে কর্মচারীরা মানবিক সংকটে পড়ছেন। অনেকেই বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত আয়ের পথ খুঁজছেন, যা রাষ্ট্রীয় চাকরির মর্যাদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
বক্তারা জানান, আসন্ন জাতীয় বাজেটে নবম পে-স্কেলের জন্য প্রয়োজনীয় বরাদ্দ নিশ্চিত করে দ্রুত প্রজ্ঞাপন জারি করা হলে প্রায় ২২ লাখ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী ও তাদের পরিবারের মধ্যে স্বস্তি ফিরে আসবে।
সমাবেশ থেকে ঘোষণা দেওয়া হয়, আগামী ১১ জুন ঘোষিত জাতীয় বাজেটে নবম পে-স্কেলের বরাদ্দ না রাখা হলে ১২ জুন থেকে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারসহ দেশের প্রতিটি জেলা ও বিভাগীয় প্রেসক্লাব চত্বরে লাগাতার অবস্থান কর্মসূচি শুরু হবে। প্রজ্ঞাপন জারি না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন অব্যাহত থাকবে বলেও জানানো হয়।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। আপনিই প্রথম মন্তব্য করুন!
আপনার মতামত দিন