সর্বশেষ
জুলাইয়ে জাপানের সাথে চুক্তির সম্ভাবনা, ১৬ ডিসেম্বরে চালু হতে পারে থার্ড টার্মিনাল বেনাপোল সীমান্তে বিএসএফের পুশইন চেষ্টা রুখে দিল বিজিবি, জিরো লাইনে আটকা ১২ জন ভাঙ্গায় সড়ক দুর্ঘটনায় একই পরিবারের ৪ জনসহ নিহত ৫ অপরাধীদের বিচার নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হলে ক্ষমতায় থাকার যৌক্তিকতা নেই: শফিকুর রহমান আকস্মিক হাসপাতালে এমপি হাসনাত, ৫ চিকিৎসককে শোকজ এলডিসি উত্তরণের সময় বাড়ানোর প্রস্তাবে সিডিপির ইতিবাচক অবস্থান নাটক ‘হেলমেট বাহিনী’ নিয়ে লীগের হুমকি,বান্নাহ বললেন ‘থোড়াই কেয়ার’ ইরানের সঙ্গে এক সপ্তাহের মধ্যে সমঝোতার আশা ট্রাম্পের ইসলামী ব্যাংকের নতুন চেয়ারম্যানের স্ত্রী ঋণ খেলাপি: বাংলাদেশ ব্যাংক এআই ট্রাফিক নজরদারি ফাঁকি দিলে কঠোর ব্যবস্থা: ডিএমপি হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৬ শিশুর মৃত্যু, মোট মৃত্যু ৫৯৪ এলপি গ্যাসের দাম কমেছে ৫৫ টাকা,দুই দফায় বেড়েছিল ৫৯৯ টাকা জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি পদে ভোট আজ, লড়ছেন বাংলাদেশের খলিলুর রহমান ইরান-যুক্তরাষ্ট্র আলোচনার অগ্রগতিতে বিশ্ববাজারে কমল তেলের দাম ইউক্রেনজুড়ে রাশিয়ার বড় হামলায় নিহত ১০ তিন মাসে খেলাপি ঋণ বেড়েছে ৩১ হাজার ৪৮৮ কোটি টাকা ইসলামী ব্যাংকের নতুন চেয়ারম্যানের পদত্যাগসহ ৭ দফা দাবি গ্রাহক ফোরামের রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে নরওয়ের জোরালো ভূমিকা চাইলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সিন্ডিকেটমুক্ত করতে না পারলে মন্ত্রিত্ব ছেড়ে দেব: প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী জর্ডানের কাছ থেকে আল-আকসা মসজিদের নিয়ন্ত্রণ নেয়ার পাঁয়তারা ইসরায়েলের শার্শায় বালু কেনাবেচার বিরোধে পুলিশ সদস্যকে মারধরের অভিযোগ ইসলামী ব্যাংকের সামনে আজও জমায়েত ও মানববন্ধন ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ নিয়ে হাসনাত আব্দুল্লাহর ব্যতিক্রমী রিভিউ রামিসা ধর্ষণ-হত্যা মামলায় সাক্ষ্য দিলেন বাবা, চাইলেন ন্যায়বিচার ইসলামী ব্যাংকের খেলাপি ঋণ ৯৪ হাজার কোটি টাকা মোহাম্মদপুরের জেনেভা ক্যাম্পে যৌথ মাদকবিরোধী অভিযান তারেক রহমানকে নিয়ে সমালোচনা , সোনারগাঁ উপজেলা বিএনপি নেতাকে শোকজ মিয়ানমারে বিস্ফোরণে ৪৬ জন নিহত, আহত ৭০-এর বেশি বঙ্গোপসাগরে জেলেদের জালে ধরা পড়ল অজ্ঞাত সামুদ্রিক যন্ত্র এবার মোদিকে চ্যালেঞ্জ ছুড়তে রাজপথের ঘোষণা ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র মে মাসে এলো দেশের ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স হামের উপসর্গ নিয়ে ২৪ ঘণ্টায় আরও ৩ শিশুর মৃত্যু ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান খুরশীদ আলমকে সরানো হবে না: বাংলাদেশ ব্যাংক কবিতা, সাহিত্য আর পরিবারের গল্পে উজ্জ্বলের ‘বনলতা সেন’ রামিসার অসুস্থ বাবাকে হাসপাতালে দেখতে গেলেন ডা. শফিকুর রহমান নয়াদিল্লিতে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে বসতে যাচ্ছে বিজিবি-বিএসএফ কুমিল্লা জেলা পরিষদের বরাদ্দ নিয়ে প্রশাসকের বক্তব্যের জবাব দিলেন হাসনাত রংপুরে মদপানে তিনজনের মৃত্যু, একজন হাসপাতালে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাবেক মন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ মারা গেছেন বাধ্য হয়ে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হয়েছে: প্রতিমন্ত্রী যশোর সীমান্তে ১১০ জনকে পুশইন চেষ্টা, ঠেকিয়ে দিল বিজিবি জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্তে জামায়াতের উদ্বেগ পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ানের পদত্যাগ রামিসা হত্যা মামলায় সোহেল রানা ও স্ত্রীর বিচার শুরু কেরানীগঞ্জে ডিসিআইয়ের সান চাইল্ড স্পন্সরশিপ প্রোগ্রাম পরিদর্শন করলেন ড. এহসান হক ইসলামী ব্যাংকের সামনে গ্রাহক-শেয়ারহোল্ডারদের মানববন্ধনে পুলিশের বাধা, আহত শতাধিক সাইপ্রাসে এস আলম ও স্ত্রীর নামে থাকা সম্পত্তি জব্দের নির্দেশ রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ ও বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থার অবক্ষয় ঈদুল আজহা উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর শুভেচ্ছা ইদ উপলক্ষে এস এম রোবায়েতের উপহার বিতরণ
জুলাইয়ে জাপানের সাথে চুক্তির সম্ভাবনা, ১৬ ডিসেম্বরে চালু হতে পারে থার্ড টার্মিনাল বেনাপোল সীমান্তে বিএসএফের পুশইন চেষ্টা রুখে দিল বিজিবি, জিরো লাইনে আটকা ১২ জন ভাঙ্গায় সড়ক দুর্ঘটনায় একই পরিবারের ৪ জনসহ নিহত ৫ অপরাধীদের বিচার নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হলে ক্ষমতায় থাকার যৌক্তিকতা নেই: শফিকুর রহমান আকস্মিক হাসপাতালে এমপি হাসনাত, ৫ চিকিৎসককে শোকজ এলডিসি উত্তরণের সময় বাড়ানোর প্রস্তাবে সিডিপির ইতিবাচক অবস্থান নাটক ‘হেলমেট বাহিনী’ নিয়ে লীগের হুমকি,বান্নাহ বললেন ‘থোড়াই কেয়ার’ ইরানের সঙ্গে এক সপ্তাহের মধ্যে সমঝোতার আশা ট্রাম্পের ইসলামী ব্যাংকের নতুন চেয়ারম্যানের স্ত্রী ঋণ খেলাপি: বাংলাদেশ ব্যাংক এআই ট্রাফিক নজরদারি ফাঁকি দিলে কঠোর ব্যবস্থা: ডিএমপি হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৬ শিশুর মৃত্যু, মোট মৃত্যু ৫৯৪ এলপি গ্যাসের দাম কমেছে ৫৫ টাকা,দুই দফায় বেড়েছিল ৫৯৯ টাকা জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি পদে ভোট আজ, লড়ছেন বাংলাদেশের খলিলুর রহমান ইরান-যুক্তরাষ্ট্র আলোচনার অগ্রগতিতে বিশ্ববাজারে কমল তেলের দাম ইউক্রেনজুড়ে রাশিয়ার বড় হামলায় নিহত ১০ তিন মাসে খেলাপি ঋণ বেড়েছে ৩১ হাজার ৪৮৮ কোটি টাকা ইসলামী ব্যাংকের নতুন চেয়ারম্যানের পদত্যাগসহ ৭ দফা দাবি গ্রাহক ফোরামের রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে নরওয়ের জোরালো ভূমিকা চাইলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সিন্ডিকেটমুক্ত করতে না পারলে মন্ত্রিত্ব ছেড়ে দেব: প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী জর্ডানের কাছ থেকে আল-আকসা মসজিদের নিয়ন্ত্রণ নেয়ার পাঁয়তারা ইসরায়েলের শার্শায় বালু কেনাবেচার বিরোধে পুলিশ সদস্যকে মারধরের অভিযোগ ইসলামী ব্যাংকের সামনে আজও জমায়েত ও মানববন্ধন ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ নিয়ে হাসনাত আব্দুল্লাহর ব্যতিক্রমী রিভিউ রামিসা ধর্ষণ-হত্যা মামলায় সাক্ষ্য দিলেন বাবা, চাইলেন ন্যায়বিচার ইসলামী ব্যাংকের খেলাপি ঋণ ৯৪ হাজার কোটি টাকা মোহাম্মদপুরের জেনেভা ক্যাম্পে যৌথ মাদকবিরোধী অভিযান তারেক রহমানকে নিয়ে সমালোচনা , সোনারগাঁ উপজেলা বিএনপি নেতাকে শোকজ মিয়ানমারে বিস্ফোরণে ৪৬ জন নিহত, আহত ৭০-এর বেশি বঙ্গোপসাগরে জেলেদের জালে ধরা পড়ল অজ্ঞাত সামুদ্রিক যন্ত্র এবার মোদিকে চ্যালেঞ্জ ছুড়তে রাজপথের ঘোষণা ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র মে মাসে এলো দেশের ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স হামের উপসর্গ নিয়ে ২৪ ঘণ্টায় আরও ৩ শিশুর মৃত্যু ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান খুরশীদ আলমকে সরানো হবে না: বাংলাদেশ ব্যাংক কবিতা, সাহিত্য আর পরিবারের গল্পে উজ্জ্বলের ‘বনলতা সেন’ রামিসার অসুস্থ বাবাকে হাসপাতালে দেখতে গেলেন ডা. শফিকুর রহমান নয়াদিল্লিতে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে বসতে যাচ্ছে বিজিবি-বিএসএফ কুমিল্লা জেলা পরিষদের বরাদ্দ নিয়ে প্রশাসকের বক্তব্যের জবাব দিলেন হাসনাত রংপুরে মদপানে তিনজনের মৃত্যু, একজন হাসপাতালে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাবেক মন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ মারা গেছেন বাধ্য হয়ে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হয়েছে: প্রতিমন্ত্রী যশোর সীমান্তে ১১০ জনকে পুশইন চেষ্টা, ঠেকিয়ে দিল বিজিবি জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্তে জামায়াতের উদ্বেগ পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ানের পদত্যাগ রামিসা হত্যা মামলায় সোহেল রানা ও স্ত্রীর বিচার শুরু কেরানীগঞ্জে ডিসিআইয়ের সান চাইল্ড স্পন্সরশিপ প্রোগ্রাম পরিদর্শন করলেন ড. এহসান হক ইসলামী ব্যাংকের সামনে গ্রাহক-শেয়ারহোল্ডারদের মানববন্ধনে পুলিশের বাধা, আহত শতাধিক সাইপ্রাসে এস আলম ও স্ত্রীর নামে থাকা সম্পত্তি জব্দের নির্দেশ রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ ও বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থার অবক্ষয় ঈদুল আজহা উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর শুভেচ্ছা ইদ উপলক্ষে এস এম রোবায়েতের উপহার বিতরণ
ডেস্ক রিপোর্টার
প্রকাশ : ০৭:৪৬ সকাল, শুক্রবার, ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ইং

নির্বাসন থেকে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পথে তারেক রহমান

ভোট দেওয়ার পর তারেক রহমান, জুবাইদা রহমান ও জাইমা রহমান

দীর্ঘ নির্বাসন থেকে প্রধানমন্ত্রী হতে যাচ্ছে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান । জুলাই  অভ্যুত্থানের পর গণতান্ত্রিক পথযাত্রায় নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন করতে যাচ্ছে বিএনপি। আওয়ামী লীগহীন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রায় দুই- তৃতীয়াংশ আসনে জয়ী হয়ে দীর্ঘ দুই দশক পর ক্ষমতায় ফিরছে দলটি। 

বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ২৯৯ আসনের মধ্যে এ পর্যন্ত ২০৭ টি আসন জিতে নিয়েছে বিএনপি ও তাঁদের জোটভুক্ত প্রার্থীরা ।

সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে জয়ের মধ্য দিয়ে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হবেন। দলটি এ ঘোষণা আগেই দিয়েছে। প্রধান বিরোধী দল হিসেবে তারা পাচ্ছে তাদের দীর্ঘদিনের জোটসঙ্গী জামায়াতে ইসলামীকে। 

১৯৭৮ সালে জিয়াউর রহমানের হাতে গড়া বিএনপি ১৯৯১, ১৯৯৬ ও ২০০১ সালে তিনবার সরকারগঠন করেছিল তার স্ত্রী খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে। আর এবার তাদেরই সন্তান তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি চতুর্থবারের মত দেশ শাসনের ভার নিতে যাচ্ছে।

সামরিক শাসক হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ সরকারের পতনের পর খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে একানব্বইয়ের নির্বাচনে জয়ী হয়ে ক্ষমতায় ফিরেছিল বিএনপি।

তার পরের তিন নির্বাচনে দুই বার সরকার গঠন করলেও মেয়াদ শেষ করতে পেরেছিল একবার। ২০০৮ সালের নির্বাচনে হেরে দলটি চলে গিয়েছিল শাসন ক্ষমতার বাইরে।

আওয়ামী লীগের আমলে তিনটি নির্বাচনের দুটি বর্জন করেছিল বিএনপি, একটিতে হয়েছিল ভরাডুবি। এরপর চব্বিশের অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগের সরকার পতনের পর নতুন বাস্তবতায় বিএনপির সামনে সরকারে ফেরার পথ তৈরি হয়।

১৯ বছর পর বিএনপি যখন সরকারে ফিরছে, তখন নতুন মেরুকরণে বিরোধীর আসনে নেই তাদের ৩৫ বছরের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগ। অন্তর্বর্তী সরকারের নিষেধাজ্ঞা আর নিবন্ধন স্থগিত থাকায় সবচেয়ে বেশি সময় বাংলাদেশ শাসন করা আওয়ামী লীগের এবার ভোট করার সুযোগ ছিল না।

বাংলাদেশের যে কোনো নির্বাচন সর্বোচ্চ ১৮ আসন পাওয়া জামায়াতে ইসলামী সেই সুযোগে এবার বিএনপির সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়েছে বেশ। মায়ের ব্যাটন হাতে তুলে নেওয়ার ধারাবাহিকতায় তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হলে বাংলাদেশের ক্ষমতা কেন্দ্রে প্রায় তিন যুগের চেনা চেহারা বদলে যাবে।

এই সময়ে বাংলাদেশের রাজনীতি আবর্তিত হয়েছে তার মা, বিএনপির প্রয়াত চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া এবং আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনাকে ঘিরে। প্রায় দেড় দশক টানা দেশ শাসন করা সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর এখন ভারতে নির্বাসিত জীবন কাটাচ্ছেন। আর আরেক সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া চিরবিদায় নিয়েছেন।

খালেদা জিয়া ও শেখ হাসিনা দুজনে একটা সময়ে পর্যায়ক্রমে সরকার প্রধান হয়ে দেশকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। একজন যখন সরকার প্রধান হয়েছেন, অন্যজন তখন থেকেছেন বিরোধী দলীয় নেতার ভূমিকায় রাজপথে। এক সময় তাদের বৈরি সম্পর্ককে বিদেশি সংবাদমাধ্যমগুলো 'দুই বেগমের যুদ্ধ' হিসেবেও চিত্রিত করেছে। 

২০০৪ সালে গ্রেনেড হামলা চালিয়ে শেখ হাসিনাকে হত্যাচেষ্টার জন্য তখনকার বিএনপি সরকারকে দায়ী করে আওয়ামী লীগ। আবার আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে খালেদা জিয়াকে দুর্নীতি মামলার সাজা নিয়ে কারাগাযে যেতে হয়েছিল। পরে শর্তসাপেক্ষে মুক্তি পেলেও অসুস্থতার কারণে তাকে একপ্রকার ঘরবন্দি জীবন কাটাতে হয়।

চব্বিশের জুলাই অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগের পতনের পর খালেদা জিয়া পুরোপুরি মুক্ত হন, আদালতের রায়ে মুক্তি পান সাজা থেকেও।

গুরুতর অসুস্থতা নিয়ে ৩০ ডিসেম্বর খালেদা জিয়া যখন চিরবিদায় নেন, তার কয়েক সপ্তাহ আগে ঘোষিত হয়েছিল ত্রয়োদশ নির্বাচনের তফসিল।

তার মৃত্যুর পর বিএনপির এক শোকাহত কর্মী আক্ষেপ করেছিলেন, ''ও আল্লাহ, আর কয়টা দিন বাঁচায় রাখতা, আমার ম্যডাম যাতে নির্বাচনটা দেইখা মৃত্যুবরণ করত।'' 

আওয়ামী লীগকে বাইরে রেখে এই নির্বাচনে অংশ নেয় বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় পার্টি, এনসিপি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশসহ ৫০টি ছোটবড় দল। দলীয় ও স্বতন্ত্র মিলিয়ে ভোটের মাঠে প্রার্থী ছিলেন ২০২৮ জন।

জামায়াতের একজন প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে প্রচারের মাঝপথে শেরপুর-৩ আসনের নির্বাচন স্থগিত হয়ে যায়। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ হয় ২৯৯টি আসনে।

লন্ডনে ১৭ বছরের নির্বাসিত জীবন কাটিয়ে বিপুল সংবর্ধনায় দেশে ফিরে নির্বাচনি যাত্রায় নেমেছিলেন তারেক রহমান, যিনি মায়ের মৃত্যুর পর দলের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নেন।

দেশ গঠনের 'পরিকল্পনা' নিয়ে দেশে আসার কথা তুলে ধরে তিনি বলেছিলেন, এক্ষেত্রে দেশবাসীর সমর্থন তিনি চান। 

তার দেশে ফেরার পাঁচ দিনের মাথায় মারা যান তার মা, খালেদা জিয়া; নির্বাচনি আমেজের মধ্যে তার এই বিদায়ে নির্বাচনে দলের নেতৃত্ব দেন তারেক। ভোটের লড়াইয়ে এগিয়ে যেতে আওয়ামী লীগ সরকারবিরোধী যুগপৎ আন্দোলনের শরিক কয়েকটি দলের সঙ্গে আসন সমঝোতা করে বিএনপি। তাদের জন্য আটটি আসন ছেড়ে দেয়।

২২ জানুয়ারি সিলেটের আলীয়া মাদ্রাসা থেকে নির্বাচনি প্রচার শুরু করে সারাদেশের বিভিন্ন জায়গায় জনসভা করেন বিএনপি চেয়ারম্যান। 

ভোটের প্রচারে জামায়াতে ইসলামীকে নিশানা করে তীব্র আক্রমণ শানান তিনি। 'মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতাকারী ও ধর্মের নামে রাজনীতি করা' দলকে ভোট না দেওয়ার আহ্বান জানান।

তারেক রহমানের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে আবির্ভূত হন জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান। শরিয়াহ আইন প্রতিষ্ঠার কথা বলে এতদিন রাজনীতি করে আসা জামায়াতকে তিনি ভোটের প্রচারে নতুন রূপে দেখানোর চেষ্টা করেন।

বিএনপির প্রতিষ্ঠাতাদের একজন অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল অলি আহমদ বীর বিক্রমের দল এলডিপির পাশাপাশি জুলাই অভ্যুত্থানে সামনের সারিতে থাকা তরুণদের দল জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপিকে সঙ্গী হিসেবে পাশে টেনে নেয় জামায়াত। প্রার্থী করা হয় একজন হিন্দু ধর্মাবলম্বীকেও।

ক্ষমতায় গেলে নারীদের অধিকার প্রতিষ্ঠার কথা জামায়াত বললেও ভোটের প্রচারের সময় নারীদের নিয়ে জামায়াত আমিরসহ কয়েক নেতার বিভিন্ন বক্তব্য নিয়ে তৈরি হয় বিতর্ক।

জামায়াতের আমিরও ভোটের প্রচারে বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রান্ত ঘুরে বেড়িয়েছেন। বিএনপির অতীত মনে করিয়ে দিয়ে 'দুর্নীতি ও চাঁদাবাজদের' বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। 

ভোটের সকালে বিভিন্ন কেন্দ্র ঘুরে এসে বিএনপির জয়ের ব্যাপারে আশা প্রকাশ করে তারেক রহমান বলেন, আন্দোলনের সময়কার সঙ্গীদের পাশাপাশি 'কম-বেশি' আরও রাজনৈতিক দলকে সঙ্গে নিয়ে তারা দেশ পরিচালনা করতে চান। 

ঢাকা সেনানিবাসের আদমজী স্কুল অ্যান্ড কলেজ, মহাখালী, পান্থপথ, ভাষাণটেক, মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ, ধানমন্ডির ২৭ নং সড়ক, সোহানবাগ ঘুরে নিজের কার্যালয়ে এসে তিনি দেশজুড়ে ভোটার উপস্থিতিতে সন্তোষ প্রকাশ করেন।

তিনি বলেন, ''ভোটার উপস্থিতি আমি যতটুকু ঢাকা শহরে দেখেছি, আমার কাছে মনে হচ্ছে, আলহামদুলিল্লাহ মানুষ অত্যন্ত উৎসাহ ভরে তার ভোট প্রয়োগ করতে যাচ্ছে। 

''আমি বিশ্বাস করি, গত দুই দিনে যেভাবে দেখেছি মানুষজন লঞ্চ, স্টিমারে, ট্রেনে, বাসে করে বিভিন্ন উৎসাহ নিয়ে দেশে ফিরে গিয়েছে, যার যার এলাকায় ফিরে গিয়েছে, ভোট দেয়ার জন্য আমরা প্রত্যাশা করি যে, ইনশাআল্লাহ আজকে সেই প্রত্যাশা নিশ্চয়ই থাকবে।'' 

সকালে মনিপুর উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের একটি কেন্দ্রে ভোট দেওয়ার পর জামায়াত আমির শফিকুর রহমানও সরকার গঠনের ব্যাপারে আশাবাদের কথা বলেন । 

তিনি বলেন, ''এই ভোটের মাধ্যমে আগামীতে এমন সরকার গঠিত হোক, যে সরকার কোনো ব্যক্তি, পরিবার, দলের হবে না; বরং যে সরকার হবে ১৮ কোটি মানুষের জনগণের সরকার। আমরা সেই সরকার গঠনের ব্যাপারে আশাবাদী, আপনারা আমাদের জন্য দোয়া করবেন।'' 

নির্বাচন নিয়ে কোনো শঙ্কা দেখছেন কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে শফিকুর বলেছিলেন, ''আমরা ছোটখাটো কোনো বিষয় হলে অবশ্যই এগুলোকে ইগনোর করব।
 
কিন্তু বড় কোনো বিষয় হলে আমরা ছাড় দেব না এবং আমাদের যা করা প্রয়োজন, তাই করব। কারণ মানুষের ভোটের অধিকার হারিয়ে যাক, এটা আমরা কোনোভাবেই চাই না।'' 

২০০১-২০০৬ মেয়াদে বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারে ঠাঁই পেয়েছিলেন জামায়াতে ইসলামীর দুই নেতা। তবে নিজেদের সক্ষমতায় সরকার গঠন তো দূরে থাকা, প্রধান বিরোধী দলের আসনেও বসার সুযোগ তাদের হয়নি। চব্বিশের অভ্যুত্থানের পর বদলে যাওয়া বাংলাদেশে এবার তারা সে সুযোগ পেতে যাচ্ছে।

মন্তব্য (0)

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। আপনিই প্রথম মন্তব্য করুন!

আপনার মতামত দিন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

নির্বাচনি প্রচারে নারীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে রাবি ছাত্রী স

1

‘দুর্নীতি ও দালালমুক্ত হাসপাতাল গড়ে তুলছে সরকার, সাধারণ মানু

2

ক্ষমতার জন্য নয়, মানুষের কল্যাণে রাজনীতি করি: তারেক রহমান

3

ভারতের কামাল মওলা মসজিদকে সরস্বতীর মন্দির ঘোষণা করল মধ্যপ্রদ

4

শেরপুর-৩ আসনে নির্বাচনি অনুষ্ঠানে চেয়ার বসা নিয়ে জামায়াত-বিএ

5

ট্রাম্পের নৈশভোজে গুলি, হামলাকারী আটক

6

এখন পর্যন্ত নির্বাচনের পরিবেশ ভালো: ডা. তাহের

7

এ বিজয় গণতন্ত্রের, এ বিজয় বাংলাদেশের: বিএনপি

8

যশোরের শার্শা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শনে সিভিল সা

9

গাজীপুরে আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে টানানো হলো ব্যানার ও জাতীয়

10

উখিয়ায় ২০ লাখ টাকা চাঁদা না দেওয়ায় ব্যবসায়ীর বাড়িতে গুলি, আহ

11

দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম কমল, ভরিতে কমেছে ২,১৫৮ টাকা

12

গাজীপুরে ৫ খুন, ফরেনসিক প্রতিবেদনে লোমহর্ষক তথ্য

13

শৃঙ্খলা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে কাজ করতে আনসার-ভিডিপিকে প্রধান

14

আওয়ামী লীগ সরকার মুক্তিযোদ্ধার খাতা থেকে আমার নাম কেটে দেয়-

15

অনাগত শিশুর লিঙ্গ পরিচয় প্রকাশ করা যাবে না : হাইকোর্ট

16

হান্নান মাসউদের ওপর হামলা, অপরাধীকে গ্রেফতারের দাবিতে সড়কে অ

17

ভোলায় গ্রেপ্তার জামায়াতের নারী কর্মী বিবি সাওদার জামিন

18

হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৬ শিশুর মৃত্যু, মোট মৃত্যু ৫৯৪

19

মুক্তিযুদ্ধে শহীদ ও গণহত্যার শিকারদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা না হও

20