জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেছেন, স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান শুধু সাধারণ কোনো ভাবনা থেকে নয়, বরং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও কৃষি বিপ্লব সূচিত করার লক্ষ্যেই খাল খনন কর্মসূচি শুরু করেছিলেন।
শনিবার (২৫ এপ্রিল) দুপুরে নেত্রকোণা সদর উপজেলার আমতলা ইউনিয়নের শিবনগর এলাকায় একটি খাল পুনঃখনন কাজের উদ্বোধনের আগে আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে ‘অতি দরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচি’র আওতায় উপজেলার ভর বিল থেকে আনছা বিল পর্যন্ত ৭ কিলোমিটার দীর্ঘ খাল পুনঃখনন করা হচ্ছে। এতে ব্যয় ধরা হয়েছে ১ কোটি ৮০ লাখ টাকা।
ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, এই খাল খনন কর্মসূচির উদ্যোক্তা ছিলেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। তিনি শুধু খাল খননের জন্য এই কর্মসূচি নেননি, এর পেছনে পরিবেশ, কৃষি ও জীববৈচিত্র্য রক্ষার বড় লক্ষ্য ছিল।
তিনি বলেন, খাল খনন কর্মসূচি বন্ধ হওয়ার পর এর কুফল এখন স্পষ্ট। পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হয়েছে, জীববৈচিত্র্য বিপন্ন হচ্ছে। আগে অল্প গভীরতায় নলকূপে পানি পাওয়া যেত, এখন অনেক গভীরে যেতে হয়। প্রকৃতি তার ভারসাম্য হারিয়েছে।
ডেপুটি স্পিকার বলেন, দেশের কৃষকদের উপকার এবং পরিবেশের ভারসাম্য ফিরিয়ে আনতেই শহীদ জিয়া এই কর্মসূচি শুরু করেছিলেন। বর্তমান সরকার সেই ঐতিহাসিক কর্মসূচিকে জনগণের কাছে পৌঁছে দিতে নতুন করে উদ্যোগ নিয়েছে।
তিনি আরও বলেন, বিগত সরকারগুলো এই কর্মসূচি অব্যাহত রাখেনি। বরং অনেক খাল ভরাট ও দখল হয়েছে। বর্তমান উদ্যোগ শুধু শহীদ জিয়ার স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা নয়, তার কর্মকে মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার প্রচেষ্টাও।
ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, দেশজুড়ে খাল পুনঃখনন কর্মসূচি সফল হলে আবারও সুজলা-সুফলা, শস্য-শ্যামলা বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব হবে।
শহীদ জিয়ার সময়কার স্বেচ্ছাশ্রমের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সে সময় স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, বেকার যুবক ও সাধারণ মানুষকে খাল খনন কাজে সম্পৃক্ত করা হয়েছিল। বর্তমান সরকারও জনঅংশগ্রহণের মাধ্যমে কৃষি বিপ্লব বাস্তবায়নে কাজ করবে।
দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি প্রসঙ্গে ডেপুটি স্পিকার বলেন, দীর্ঘদিন কার্যকর নির্বাচন না থাকায় দেশে গণতন্ত্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের মাধ্যমে বাংলাদেশ হারানো গণতন্ত্র ফিরে পেয়েছে। এই গণতন্ত্র ধরে রাখতে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সমন্বয় ও নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে।
তিনি বলেন, সংসদে সরকারি ও বিরোধী দলের সমন্বয়ে কমিটি গঠন গণতন্ত্রের সৌন্দর্য। সরকার ও বিরোধী দল ঐক্যবদ্ধভাবে দেশকে এগিয়ে নেবে-এটাই প্রত্যাশা।
সম্প্রতি পূর্বধলায় সংসদ সদস্যের গাড়িতে হামলার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, রাজনৈতিক সম্প্রীতি বজায় রেখে সবাইকে রাজনীতি করতে হবে। এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে পুলিশ প্রশাসনকে নির্দেশ দেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের সুযোগ কাজে লাগিয়ে সব রাজনৈতিক দলকে একটি সত্যিকারের গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে। যেখানে আইনের শাসন থাকবে এবং ধর্ম-বর্ণ-জাতিগোষ্ঠী নির্বিশেষে প্রতিটি নাগরিক সমান অধিকার ও মর্যাদা পাবে।
জেলা প্রশাসক খন্দকার মুশফিকুর রহমানের সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন নেত্রকোণা-২ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক ডা. মো. আনোয়ারুল হক।
নেত্রকোণা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসমা বিনতে রফিকের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন জেলা পুলিশ সুপার মো. তরিকুল ইসলাম, জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাডভোকেট নুরুজ্জামান এবং জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. রুহুল আমিন। এ সময় স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। আপনিই প্রথম মন্তব্য করুন!
আপনার মতামত দিন