রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের চুল্লিপাত্রে পারমাণবিক জ্বালানি ভরার কাজ শেষ হয়েছে। এখন চুল্লিপাত্রের উপরের অংশ বসানো এবং প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হবে।
ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান অ্যাটমস্ট্রয়এক্সপোর্ট মঙ্গলবার (১২ মে) ফুয়েল লোডিং শেষ হওয়ার বিষয়টি জানিয়েছে। এক বিজ্ঞপ্তিতে প্রতিষ্ঠানটি জানায়, রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে গত ২৮ এপ্রিল পারমাণবিক জ্বালানি ভরার কাজ শুরু হয়। ধাপে ধাপে চুল্লিপাত্রে ১৬৩টি জ্বালানি অ্যাসেম্বলি ঢোকানো হয়েছে।
রূপপুর প্রকল্পের পরিচালক ও অ্যাটমস্ট্রয়এক্সপোর্টের ভাইস প্রেসিডেন্ট আলেক্সি ডেইরি বলেন, পরবর্তী ধাপে চুল্লিপাত্রের উপরের অংশ স্থাপন এবং প্রয়োজনীয় ইন-কোর ইনস্ট্রুমেন্টেশন সিস্টেম সংযুক্ত করা হবে। এরপর পুরো ব্যবস্থার নির্ভরযোগ্য ও নিরাপদ কার্যক্রম নিশ্চিত করতে একাধিকবার পরীক্ষা করা হবে।
বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, এসব পরীক্ষা শেষ হলে নিয়ন্ত্রিতভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হবে। এরপর ধাপে ধাপে উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানো হবে।
প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানান, বাণিজ্যিকভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরুর আগের চূড়ান্ত ধাপ হলো ফুয়েল লোডিং। এরপর ফিজিক্যাল স্টার্টআপ ও প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষায় প্রায় এক মাস সময় লাগতে পারে।
পরবর্তী ধাপে ধীরে ধীরে চুল্লির সক্ষমতা বাড়িয়ে উৎপাদন পর্যায়ক্রমে ৩, ৫, ১০, ২০ ও ৩০ শতাংশে উন্নীত করা হবে। এ প্রক্রিয়ায় আরও প্রায় ৪০ দিন সময় লাগতে পারে। রিঅ্যাক্টরের সক্ষমতা ৩০ শতাংশে পৌঁছানোর পর পরীক্ষামূলকভাবে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হবে। আগামী আগস্টে এটি হতে পারে বলে প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় একক প্রকল্প রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র। এ প্রকল্পের আওতায় ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার দুটি ইউনিট নির্মাণ করা হচ্ছে।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। আপনিই প্রথম মন্তব্য করুন!
আপনার মতামত দিন