চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার আলোচিত জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় সদ্য প্রতিষ্ঠিত র্যাব ক্যাম্প লক্ষ্য করে মুহুর্মুহু গুলিবর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। খবর পেয়ে সেনাবাহিনী, র্যাব ও পুলিশের সমন্বয়ে গঠিত যৌথ বাহিনী এলাকায় অভিযান শুরু করেছে।
রোববার দিবাগত রাত ১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন র্যাব-৭-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল হাফিজুর রহমান।
তিনি বলেন, রাত ১টার পর জঙ্গল সলিমপুরে স্থাপিত র্যাব ক্যাম্প লক্ষ্য করে সন্ত্রাসীরা গুলিবর্ষণ করে। এ হামলার জন্য ইয়াসিন বাহিনীকে দায়ী করে তিনি বলেন, যৌথ বাহিনীর অভিযানে জঙ্গল সলিমপুর থেকে বিতাড়িত ইয়াসিন গ্রুপ এ হামলা চালিয়েছে বলে তারা নিশ্চিত হয়েছেন।
অভিযানে থাকা র্যাবের এক কর্মকর্তা জানান, রাত ৩টার দিকে যৌথ বাহিনী জঙ্গল সলিমপুর এলাকা ঘেরাও করে। এরপর সেখানে অভিযান শুরু করা হয়।
চট্টগ্রাম নগরের বায়েজিদ-ফৌজদারহাট সংযোগ সড়কের পাশে পাহাড়ঘেরা এলাকা জঙ্গল সলিমপুর। এলাকাটি মূলত জঙ্গল সলিমপুর ও আলীনগর—এই দুই অংশে বিভক্ত। জেলা প্রশাসনের তথ্যমতে, এখানে প্রায় ৩ হাজার ১০০ একর খাসজমি রয়েছে।
প্রায় তিন দশক ধরে এলাকাটি বিভিন্ন ভূমিদস্যু ও সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। এসব চক্র পাহাড় কেটে বসতি গড়ে তোলার পাশাপাশি অস্ত্র ও মাদকের সাম্রাজ্য তৈরি করেছিল বলেও স্থানীয়দের অভিযোগ।
গত ৯ মার্চ সেনাবাহিনী, র্যাব, পুলিশ ও বিজিবির সমন্বয়ে যৌথ বাহিনীর অভিযানের পর সন্ত্রাসীরা জঙ্গল সলিমপুরের নিয়ন্ত্রণ হারায়। সরকার সেখানে পুলিশ প্রশিক্ষণ একাডেমি, কারাগারসহ বিভিন্ন সরকারি স্থাপনা নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে।
জানা গেছে, ৯ মার্চের যৌথ অভিযানে ২২ জনকে গ্রেপ্তার করা হলেও ইয়াসিন বাহিনীর প্রধান মো. ইয়াসিন, রোকন বাহিনীর প্রধান রোকন উদ্দিন, মশিউর রহমান, নুরুল হক ভান্ডারি, গাজী সাদেক ও গোলাম গফুরসহ কয়েকজন এখনো পলাতক রয়েছেন।
এলাকাবাসীর দাবি, অভিযানের আগে জঙ্গল সলিমপুরের ছিন্নমূল এলাকা রোকন বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে এবং আলীনগর এলাকা ইয়াসিন বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে ছিল।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। আপনিই প্রথম মন্তব্য করুন!
আপনার মতামত দিন