নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ও এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেন বলেছেন, তার নিজ নির্বাচনি এলাকা রংপুর-৪-এর হারাগাছ এলাকায় তার সফরকে কেন্দ্র করে যদি কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে, তবে এর দায় বিএনপি নেতা এমদাদুল ভরসা ও বিএনপির হাইকমান্ডকে নিতে হবে।
রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) সকালে নিজের ফেসবুক পোস্টে আখতার হোসেন এ অভিযোগ করেন। তিনি জানান, হারাগাছ পৌর বিএনপি তার সফরকে কেন্দ্র করে হরতাল ও বিক্ষোভ কর্মসূচির ডাক দেয়, যা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটাতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা করছেন।
ফেসবুক পোস্টে আখতার হোসেন লেখেন, বিএনপি সরকার গঠন করার পর বিরোধী দলের একজন সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে হরতাল ডাকা নজিরবিহীন ঘটনা। তার অভিযোগ, বিএনপির নাম ব্যবহার করে এমদাদুল ভরসার অনুসারীরা নির্বাচনের সময় এবং পরবর্তী সময়ে বাড়িঘর ভাঙচুর, হামলা, লুটপাট ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের মতো সহিংস কর্মকাণ্ড চালিয়েছে।
নির্বাচনের দিনকার পরিস্থিতি তুলে ধরে তিনি বলেন, রংপুর-৪ আসনের হারাগাছ পৌরসভায় এনসিপির শাপলা কলি প্রতীকের কর্মী ও সমর্থকদের বিভিন্ন কেন্দ্রে বাধা দেওয়া হয়। একাধিক কেন্দ্রে তাদের ওপর হামলা, ভোটার স্লিপ বিতরণের টেবিল ভাঙচুর এবং হুমকি দেওয়ার অভিযোগ করেন তিনি। প্রশাসন ও গণমাধ্যমে বিষয়টি জানানো হলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলেও দাবি করেন আখতার হোসেন।
তিনি আরও বলেন, ভোট গণনার সময় হারাগাছ মডেল কলেজ কেন্দ্রে তাকে মারধরের হুমকি দেওয়া হয় এবং কেন্দ্রের গেট আটকে রাখা হয়। পরে সেনাবাহিনীর হস্তক্ষেপে তিনি নিরাপদে কেন্দ্র ত্যাগ করতে সক্ষম হন। তার দাবি, কাস্টিং ভোটের হিসাব নেওয়ার মাধ্যমে অতিরিক্ত ভোট দেখানোর একটি পরিকল্পনা তারা প্রতিহত করতে পেরেছেন।
নির্বাচনের ফলাফলের প্রসঙ্গে আখতার হোসেন বলেন, ফল ঘোষণার পর প্রথমদিকে কোনো অভিযোগ না তুললেও বিএনপি সরকার গঠনের আভাস পাওয়ার পর থেকেই ভরসা বাহিনী বেপরোয়া হয়ে ওঠে। এ সময় এনসিপির নেতাকর্মীদের বাড়িঘর ভাঙচুর করা হয় এবং অনেককে মারধর করে এলাকা ছাড়তে বাধ্য করা হয় বলে তিনি অভিযোগ করেন।
হারাগাছ সফর প্রসঙ্গে তিনি জানান, নির্বাচনের পরদিনই এলাকায় যেতে চাইলেও সহিংসতার কারণে তা সম্ভব হয়নি। আজ তিনি ভাঙচুরের শিকার বাড়িঘর পরিদর্শন, নিপীড়িত মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং বিচার দাবি করতেই এলাকায় যাচ্ছেন।
পোস্টের শেষাংশে আখতার হোসেন বলেন, গত দেড় বছরে হারাগাছ পৌরসভার উন্নয়নে সাড়ে ছয় কোটি টাকা বিশেষ বরাদ্দ আনা হয়েছে। এসব অর্থ কোন খাতে ব্যয় হলে মানুষের বেশি উপকার হবে তা জানতেই তিনি এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলতে চান। তবে এ সফরে তার বা তার অনুসারীদের কোনো ক্ষতি হলে তার সম্পূর্ণ দায় বিএনপি নেতা এমদাদুল ভরসা ও বিএনপির হাইকমান্ডের ওপর বর্তাবে বলে তিনি হুঁশিয়ারি দেন।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। আপনিই প্রথম মন্তব্য করুন!
আপনার মতামত দিন