অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে চুক্তিভিত্তিক দায়িত্বে আসা নয়জন সচিবের চুক্তির বাকি মেয়াদ বাতিল করেছে নতুন সরকার। তিন সচিবকে দায়িত্ব থেকে সরানোর মধ্যেই চাকরি গেছে নয়জন জ্যেষ্ঠ সচিব ও সচিবের।
নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসা বিএনপি নেতৃত্বাধীন নতুন সরকারের প্রথম সপ্তাহে প্রশাসনে এটিই বড় পদক্ষেপ।
এ দিন দু দফায় ১২ জন সচিবকে সরানো হল। তবে এখনও নতুন কাউকে এসব দায়িত্বে দেওয়া হয়নি।
পৃথক আদেশে সোমবার সন্ধ্যায় তিনজন সচিবকে সরিয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে যুক্ত করা হয়। পরে রাতে নয়জনের চুক্তির অবশিষ্ট মেয়াদ বাতিল করা হয়।
চুক্তি বাতিল করা সচিবরা হলেন- স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সচিব মো. সাইদুর রহমান, তথ্য ও প্রযুক্তি বিভাগের সচিব শীষ হায়দার চৌধুরী, পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য মো. মোখলেসুর রহমান (সিনিয়র সচিব), এম এ আকমল হোসেন আজাদ (সিনিয়র সচিব) ও কাইয়ুম আরা বেগম (সচিব), বিশ্ব ব্যাংকের বিকল্প নির্বাহী পরিচালক বেগম শরিফা খান, ভূমি আপিল বিভাগের সিনিয়র সচিব মোহাম্মদ ইউসুফ, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মমতাজ আহমেদ এবং জাতীয় পরিকল্পনা ও উন্নয়ন একাডেমির মহাপরিচালক সিদ্দিক জোবায়ের।
চব্বিশের আন্দোলনে আওয়ামী লীগ ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর দায়িত্বে আসা অন্তর্বর্তী সরকার প্রশাসনে ব্যাপক রদবদল করে। আওয়ামী লীগ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। অনেককে অবসরে পাঠানো হয়।
তাদের স্থানে সাবেক অনেক কর্মকর্তাকে ফিরিয়ে এনে সচিবসহ বিভিন্ন পদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হয়।
সোমবার এর আগে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে জনপ্রশাসনে যুক্ত করা সচিবরা হলেন- মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব রেহানা পারভীন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব সাইফুল্লাহ পান্না এবং ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. কামাল উদ্দিন।
সোমবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এসব পৃথক আদেশের আগে প্রশাসনের শীর্ষ দুই পদ মন্ত্রিপরিষদ সচিব ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সচিবসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদে নতুন মুখ এসেছে।
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ভোটে জিতে নিরঙ্কুশ আসন পেয়ে ক্ষমতায় আসে বিএনপি সরকার। এরপর নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর নতুনত্বের হাওয়া লাগে বিভিন্ন দপ্তরে। এরইমধ্যে সামরিক-বেসামরিক এবং প্রশাসনের বিভিন্ন পদে রদবদল শুরু হয়েছে।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। আপনিই প্রথম মন্তব্য করুন!
আপনার মতামত দিন