অভিবাসন ভিসা স্থগিতের পর এবার বাংলাদেশিদের জন্য সর্বোচ্চ তিন মাস মেয়াদি, একবার প্রবেশযোগ্য (সিঙ্গেল-এন্ট্রি) ভিসা দেওয়ার সিদ্ধান্ত জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। আজ সোমবার ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাস ‘ভিসা বন্ড’ পাইলট প্রোগ্রাম কীভাবে কাজ করবে—সে বিষয়ে প্রকাশিত এক বার্তায় এই তথ্য জানায়।
সোমবার (২৬ জানুয়ারি) ঢাকার মার্কিন দূতাবাস এক বিজ্ঞপ্তিতে ভিসা বন্ড পাইলট প্রোগ্রাম কীভাবে কার্যকর হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করে।
এর আগে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য সাময়িকভাবে অভিবাসন ভিসা স্থগিত করে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর। পরে গত ৭ জানুয়ারি বাংলাদেশকে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘ভিসা বন্ড’ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়। বাংলাদেশিদের জন্য এই কর্মসূচি কার্যকর হয়েছে ২১ জানুয়ারি থেকে।
দূতাবাসের তথ্য অনুযায়ী, ভিসা বন্ড প্রোগ্রামের আওতায় আবেদনকারীদের যেসব শর্ত মানতে হবে, সেগুলো হলো— ভিসা অনুমোদনের ৩০ দিনের মধ্যে ভিসা বন্ড পরিশোধ করা, ভিসা ইন্টারভিউয়ের পর যোগ্য বিবেচিত হলে কনসুলার কর্মকর্তার দেওয়া pay.gov–এর লিংকের মাধ্যমে অর্থ জমা দেওয়া, সর্বোচ্চ তিন মাস মেয়াদি সিঙ্গেল এন্ট্রি ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণ করা এবং নির্ধারিত পোর্ট অব এন্ট্রি ব্যবহার করা।
এছাড়া, যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানকালে কোনো ধরনের কাজ না করা এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দেশে ফিরে এলে ভিসা বন্ডের অর্থ স্বয়ংক্রিয়ভাবে ফেরত দেওয়া হবে।
ভিসা বন্ড তালিকায় বাংলাদেশ যুক্ত হওয়ায়, বাংলাদেশি নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ১৫ হাজার মার্কিন ডলার পর্যন্ত ফেরতযোগ্য জামানত জমা দিতে হতে পারে।
মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানায়, এই পাইলট প্রোগ্রামের মূল উদ্দেশ্য হলো ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর অবৈধভাবে অবস্থান (ওভারস্টে) নিরুৎসাহিত করা। যেসব দেশের নাগরিকদের ওভারস্টের হার তুলনামূলক বেশি, মূলত সেসব দেশকেই এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
ভিসা বন্ড প্রদানকারী বাংলাদেশি যাত্রীদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের ক্ষেত্রে তিনটি নির্দিষ্ট বিমানবন্দর নির্ধারণ করা হয়েছে। এগুলো হলো বোস্টন লোগান ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট (BOS), জন এফ কেনেডি ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট (JFK) এবং ওয়াশিংটন ডুলস ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট (IAD)। নির্ধারিত এসব বিমানবন্দর ছাড়া অন্য কোনো পথে প্রবেশ বা প্রস্থান করলে ভিসা বন্ডের শর্ত ভঙ্গ হয়েছে বলে গণ্য হতে পারে।
বাংলাদেশ ছাড়াও যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা বন্ড তালিকায় রয়েছে আলজেরিয়া, অ্যাঙ্গোলা, ভুটান, কিউবা, জিবুতি, ফিজি, নাইজেরিয়া, নেপাল ও উগান্ডা। দেশভেদে ভিন্ন ভিন্ন তারিখ থেকে এই নিয়ম কার্যকর হচ্ছে।
উল্লেখ্য, ভিসা বন্ড একটি ফেরতযোগ্য আর্থিক জামানত, যা নির্দিষ্ট কিছু দেশের নাগরিকদের সাময়িক ভিসা দেওয়ার আগে গ্রহণ করা হয়। এর মাধ্যমে ভিসার শর্ত, বিশেষ করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দেশে ফিরে আসা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। অতীতে নিউজিল্যান্ড ও যুক্তরাজ্যও ওভারস্টে নিয়ন্ত্রণে এ ধরনের ব্যবস্থা চালু করলেও পরে তা বাতিল করে।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। আপনিই প্রথম মন্তব্য করুন!
আপনার মতামত দিন