স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সংঘাত-সহিংসতার অতীত তুলে ধরে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন বলেছেন, আগামী নির্বাচনে তিনি কোনো রক্তপাত দেখতে চান না।
বৃহস্পতিবার ঢাকার একটি হোটেলে এশিয়ান নেটওয়ার্ক ফর ফ্রি ইলেকশনস আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সহিংসতা নিয়ে বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থা ও সংবাদমাধ্যমের তথ্য তুলে ধরে সিইসি বলেন, ২০১৬ সালের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ২৩৬ জন এবং ২০২১ সালের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ১১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে।
তিনি বলেন, আশির দশকে এরশাদ সরকারের সময় স্থানীয় নির্বাচনে ব্যাপক সংঘাত ও হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। মারামারিতে আহতদের কারণে হাসপাতালগুলো ভরে যেত। এই সহিংসতা থামানো এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সিইসি বলেন, ‘রক্তপাতহীন একটি স্থানীয় সরকার নির্বাচন আমরা দিতে চাই। নির্বাচনটি সুন্দরভাবে পরিচালনা করতে চাই।’
স্থানীয় সরকারের ৪ হাজার ৫৮১টি ইউনিয়ন পরিষদ, ৬১টি জেলা পরিষদ, ৪৯৫টি উপজেলা পরিষদ, ৩৩০টি পৌরসভা এবং ১৩টি সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন পদে ভোটের প্রস্তুতি চলছে। ধাপে ধাপে অনুষ্ঠেয় এই নির্বাচন চলতি বছর নাগাদ শুরুর পরিকল্পনা রয়েছে।
নির্দলীয় এই নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে আয়োজনের জন্য রাজনৈতিক দলগুলোর সহযোগিতা চান নাসির উদ্দিন।
সিইসি বলেন, স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন স্তরের নির্বাচনে অনেক কাজ রয়েছে। তাই সবার সহযোগিতা আরও বেশি প্রয়োজন। সুষ্ঠু নির্বাচন করতে ইসির চেষ্টার কোনো ঘাটতি থাকবে না।
স্থানীয় নির্বাচন সামনে রেখে অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করা হবে জানিয়ে তিনি বলেন, ভোটকে কেন্দ্র করে সচেতনতামূলক প্রচারণা চালানো হবে। সবাইকে একত্রিত করার চেষ্টা করা হবে, যাতে সংঘাত এড়িয়ে সুন্দর একটি স্থানীয় সরকার নির্বাচন করা যায়।
রাজনৈতিক দলগুলোর সহযোগিতা ছাড়া সংঘাতহীন নির্বাচন করা সম্ভব নয় বলেও মন্তব্য করেন সিইসি। তিনি বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের ইতিহাস সংঘাতপূর্ণ। তবে জাতীয় নির্বাচন সুন্দরভাবে আয়োজন করা গেছে, স্থানীয় সরকার নির্বাচনও করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদী।
সিইসি আরও বলেন, সরকারের সহযোগিতা ছাড়া সুন্দর নির্বাচন সম্ভব নয়। নির্বাচন কমিশন কারও পক্ষে বা বিপক্ষে নয়। কমিশন এমন পরিবেশ তৈরি করতে চায়, যেখানে সবাই শান্তিপূর্ণভাবে ভোট দিতে পারবেন।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। আপনিই প্রথম মন্তব্য করুন!
আপনার মতামত দিন