কিশোরগঞ্জের মিঠামইন উপজেলা বিএনপির সভাপতি জাহিদুল আলম জাহাঙ্গীর-এর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাঁর প্রাথমিক সদস্যপদসহ দলীয় সব পর্যায়ের পদ স্থগিত করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত তাঁর সব দলীয় দায়িত্ব স্থগিত থাকবে।
মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) গণমাধ্যমে পাঠানো বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী-র স্বাক্ষরিত এক বার্তায় এ তথ্য জানানো হয়।
দলীয় সূত্র জানায়, নিজ বাড়িতে যাতায়াতের পথ সহজ করতে কামালপুর এলাকায় নদীভাঙন রোধে নির্মিত বেড়িবাঁধে রোপণ করা প্রায় ২০টি মেহগনি গাছ ব্যক্তিগত স্বার্থে কেটে ফেলার অভিযোগ তাঁর বিরুদ্ধে প্রমাণিত হয়েছে। বিষয়টি দলীয় নীতি, আদর্শ ও শৃঙ্খলা ভঙ্গের সুস্পষ্ট দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচনা করেছে দলটি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সাবেক রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর নদীভাঙন প্রতিরোধে ওই বেড়িবাঁধে গাছ রোপণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। দীর্ঘদিন ধরে গাছগুলো এলাকাবাসীর কাছে ভাঙনরোধের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছিল।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক স্থানীয় বাসিন্দা জানান, জাহাঙ্গীর আলমের বাড়িতে প্রবেশের একমাত্র পথ বাঁধের ওপর দিয়ে হওয়ায় ব্যক্তিগত গাড়ি চলাচলে অসুবিধার কথা বলে গত ৫ আগস্টের পর থেকে একে একে গাছ কাটা শুরু হয়। সর্বশেষ ২১ ফেব্রুয়ারি একসঙ্গে ১০ থেকে ১২টি গাছ কেটে ফেলা হয়। প্রতিটি গাছের আনুমানিক বাজারমূল্য ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা বলে দাবি করেন তাঁরা।
অভিযোগ রয়েছে, বৈদ্যুতিক করাত দিয়ে গাছের গুঁড়ি কেটে সেগুলো অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়। ঘটনার পর এলাকায় ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়লেও অভিযুক্ত ব্যক্তি প্রভাবশালী হওয়ায় প্রকাশ্যে কেউ মুখ খুলতে সাহস পাননি।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন জাহিদুল আলম জাহাঙ্গীর। তিনি বলেন, গাছ কাটার সঙ্গে তাঁর কোনো সম্পৃক্ততা নেই এবং বেড়িবাঁধ কিংবা জমিটি সরকারি বা অধিগ্রহণকৃত নয় বলেও দাবি করেন তিনি।
এ বিষয়ে মিঠামইন উপজেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত বন বিভাগের কর্মকর্তা জুলফিকার জয় বলেন, বেড়িবাঁধের গাছগুলো স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে ইউনিয়ন পরিষদের সহযোগিতায় একটি বেসরকারি সংস্থা রোপণ করেছিল। বিষয়টি বন বিভাগের আওতাভুক্ত নয়।
অন্যদিকে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর-এর মিঠামইন উপজেলা প্রকৌশলী ফয়জুর রাজ্জাক জানান, ১৯৯৫–৯৬ অর্থবছরে বাঁধটি নির্মাণ করা হয় এবং তখনই গাছগুলো রোপণ করা হয়েছিল। গাছ কাটার খবর পাওয়ার পর স-মিলে অভিযান চালিয়ে কাঠ জব্দ করা হয়েছে এবং এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। আপনিই প্রথম মন্তব্য করুন!
আপনার মতামত দিন