জাতির প্রতি দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী একটি অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজনের লক্ষ্যে আইন ও সংবিধানের বিধান অনুসারে কাজ করে যাচ্ছে নির্বাচন কমিশন। এমনটাই জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন।
বুধবার রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল–এ আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক ও গণমাধ্যম প্রতিনিধিদের ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা বলেন। এ সময় অন্য চার নির্বাচন কমিশনারসহ ইসি সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক ও সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন।
সিইসি বলেন, আগামীকাল অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে শান্তিপূর্ণ, বিশ্বাসযোগ্য ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজনের জন্য কমিশন দৃঢ় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও সরকারের সহায়তায় ব্যাপক নিরাপত্তা ও সমন্বয় ব্যবস্থা কার্যকর রয়েছে।
তিনি জানান, যেকোনো নির্বাচনী বিরোধ প্রতিষ্ঠিত আইনি ও সাংবিধানিক পদ্ধতি অনুসারে নিষ্পত্তি করা হবে। স্বচ্ছতাকে নির্বাচন ব্যবস্থাপনার মূল ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, গণমাধ্যম ও পর্যবেক্ষকদের অংশগ্রহণ সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা ও জনআস্থা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
ভোটকেন্দ্রে গোপনীয়তা বজায় রেখে গণমাধ্যম কর্মীদের প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে বলেও জানান সিইসি। দেশীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের কমিশনের নির্দেশিকা অনুযায়ী পর্যবেক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে তারা তাদের পর্যবেক্ষণ ও ফলাফল প্রকাশ করতে পারবেন।
তিনি জানান, নির্বাচন ব্যবস্থাপনা সংস্থা ও আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিসহ ৪৫টি দেশ ও সংস্থার প্রতিনিধিরা এ নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন।
ভোটদান ও গণনা প্রক্রিয়া সম্পর্কে সিইসি বলেন, লিঙ্গ ও বয়স নির্বিশেষে সকল ভোটার নির্বিঘ্নে অংশ নিতে পারবেন। যথাযথ পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর ব্যালট ইস্যু করা হবে এবং নির্ধারিত নিয়মে গোপনীয়তা বজায় রেখে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হবে। ভোটগ্রহণ শেষে কেন্দ্রেই গণনা সম্পন্ন করে ফলাফল ঘোষণা করা হবে এবং পরে রিটার্নিং কর্মকর্তারা তা সংকলন করে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেবেন।
ভোটারদের অংশগ্রহণ সহজ করতে আজ ও আগামীকাল সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ চলবে।
সিইসি জানান, ভোটার তালিকা হালনাগাদে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রায় ৪৫ লাখ নতুন ভোটার যুক্ত হয়েছেন, যার মধ্যে প্রায় ২৭ লাখ নারী। বর্তমানে মোট নিবন্ধিত ভোটারের সংখ্যা ১২ কোটি ৭০ লাখের বেশি। এ কার্যক্রমে জাতিসংঘসহ বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা সহায়তা করেছে।
প্রথমবারের মতো তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর পোস্টাল ব্যালট ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিরাও ভোট দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। সীমিত সময় সত্ত্বেও প্রায় ৮ লাখ প্রবাসী ভোটার নিবন্ধন সম্পন্ন করেছেন বলে জানান তিনি।
সিইসি বলেন, নির্বাচনের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। ব্যালট পেপারসহ প্রয়োজনীয় সামগ্রী সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তাদের কাছে বিতরণ করা হয়েছে এবং তা কেন্দ্রভিত্তিক পাঠানো হচ্ছে।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। আপনিই প্রথম মন্তব্য করুন!
আপনার মতামত দিন